পুণ্যস্নানে নেমে দিঘির জলে সলিল সমাধি
“আমার ছেলে সাঁতার জানত না। কীভাবে ডুবে গেছে কেউ দেখিও নাই।”
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় দুর্গাসাগর দিঘিতে ডুবে এক কলেজ ছাত্রের প্রাণ গেছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে বরিশাল দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মীর শাহবুদ্দিন জানিয়েছেন।
মৃত ১৮ বছর বয়সী মন্দিপ মণ্ডল বরিশাল নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড অক্সফোর্ড মিশন রোডের ঘোষ বাড়ির বাসিন্দা সাগর মণ্ডলের ছেলে।
বরিশাল নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল সে।
মন্দিপের তার মা চম্পা মণ্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুর্গাসাগর দিঘিতে দুই ছেলেকে নিয়ে পুণ্যস্নান করতে নামে স্বামী সাগর মণ্ডল। স্নান শেষে ওঠার সময় মন্দিপকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
পরে মাইকিং করেও না পেয়ে দিঘিতে তল্লাশি করে ডুবুরি ঘাটের কিছু দূর থেকে ছেলেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
মন্দিপ এসএসসিতে বৃত্তি পেয়েছে জানিয়েছে চম্পা বলেন, “আমার ছেলে সাঁতার জানত না। কীভাবে ডুবে গেছে কেউ দেখিও নাই।”
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মীর শাহবুদ্দিন বলেন, মন্দিপকে না পেয়ে মাইকিং করার সঙ্গে সঙ্গে দিঘিতে তাদের ডুবুরিরা তল্লাশি শুরু করে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলছেন, “দুর্গাসাগর দিঘিতে ডুবে যাওয়া এক তরুণকে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”
মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে বলে আপাতত ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে; প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে।”
তবে মন্দিপের পরিবার ময়নাতদন্ত করাতে রাজি নয় বলে অরুণ কর্মকার নামে তার এক স্বজন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়েছে।”
বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি এসএম মাকসুদ আলম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতের পরিবার যদি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে আসে, তাহলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ বুৃঝিয়ে দেওয়া হবে।
