কুড়িগ্রামে নির্বিঘ্নে অটোরিকশা চলাচলের দাবিতে চালকদের সড়ক অবরোধ
অবরোধের কারণে কুড়িগ্রাম-রংপুর, কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম-উলিপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
কুড়িগ্রামের সব সড়কে নির্বিঘ্নে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন চালকেরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শহরের জিরো পয়েন্ট শাপলা চত্বরে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
অবরোধের কারণে কুড়িগ্রাম-রংপুর, কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম-উলিপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধ চলাকালে কুড়িগ্রাম জেলা সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুম মিয়া বলেন, জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল মিয়ার লোকজন বিভিন্ন সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। তারা অটোরিকশা থেকে যাত্রী নামিয়ে নিয়ে তাদের বাসে তুলে দেন। এতে সিএনজি চালকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
লালমনিরহাট সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় সিএনজি চালকদের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিএনজি চলাচলের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কার্যকর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো সিএনজি চালকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, মারধর বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এসময় কুড়িগ্রাম জেলা সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী, তিস্তা সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিলন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, তারা নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে চান। কিন্তু বিভিন্ন সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা ও হয়রানির শিকার হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তাই জেলার সব সড়কে সিএনজি চলাচলের সুযোগ, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। নইলে জেলার সড়কে কোনো যানবাহনের চাকা ঘুরতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ হয়রানি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তার আশ্বাসের পর অটোরিকশা চালকেরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ওসি কামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আগে আমি জানতাম না, আজই প্রথম জানতে পেরেছি। সিএনজি চালকদের আর কেউ কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না। কেউ হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যেকোনো ধরনের সহযোগিতা আমার পক্ষ থেকে থাকবে।”
অভিযোগের বিষয়ে কুড়িগ্রাম মটর মালিক সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান বকসী বলেন, “সরকার এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক সারাদেশে মহাসড়ক গুলোতে কোনোভাবেই তিন চাকার বাহন চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু এই নির্দেশনা ত্রিহুইলার বাহনগুলো মানছে না।
“সম্প্রতি রংপুর বিভাগীয় মটর মালিক সমিতির উদ্যোগে সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আট জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামেও এরই অংশ হিসাবে মহাসড়কে চলাচলকারী ত্রি হুইলার বাহন চলাচলে নিরুৎসাহিত করতে যাত্রী নামিয়ে দেয়া হয়। যাত্রীদের সচেতন করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মহাসড়কে চলাচলকারী বাহন দূরপাল্লার এবং দ্রুতগতির। মহাসড়কে অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ত্রিহুইলার বাহন। এ কারণে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতা করছি।”
