চাঁদপুরের আড়তে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ, খুশি ক্রেতা-বিক্রেতা

“এখানে এলে জেলেদের ধরে আনা তাজা ইলিশ ক্রয় করা যায়। দাম বেশি হলেও ভেজাল নেই।”

চাঁদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 04:55 AM
Updated : 30 Jan 2024, 04:55 AM

চাঁদপুর সদরের ছোট আড়তগুলোতে জেলেরা সরাসরি নদী থেকে ইলিশ আনেন; ফলে এসব আড়তে পর্যাপ্ত পরিমাণে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার হরিণা ফেরিঘাটের মৎস্য আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এখানে বেশিরভাগই খুচরা ক্রেতা।

এ ছাড়া অল্প কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী রয়েছেন; যারা জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ কিনে শহরের বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আড়তদার মোক্তার হোসেন বলেন, “এই আড়তে প্রতিদিন গড়ে ৩৭-৫০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়। এখানে ক্রেতাদের মধ্যে খুচরা ক্রেতার সংখ্যাই বেশি।”

তিনি বলেন, “নদী থেকে এখানে জেলেরা ইলিশ নিয়ে আসলে হাঁকডাক দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। ইলিশে জমিয়ে রাখার কোনো সুযোগ থাকে না। যে কারণে আমাদেরকে ইলিশ বরফ দিয়ে রাখতে হয় না। তাজা ইলিশ ক্রয় করার জন্য জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা আসেন।”

বর্তমানে ইলিশের দামের বিষয়ে এই আড়তদার বলেন, আড়তে আজকে ১ কেজি ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬৫০ থেকে ১৭০০ টাকায়। আর ৭০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত ইলিশ প্রতিকেজি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হয় ৫৫০-৭০০ টাকায়।

ঘাটে ইলিশ বিক্রি করতে আসা জেলে লোকমান ও বারেক খান জানান, তারা সকালে ছোট নৌকা নিয়ে মেঘনায় ইলিশ আহরণে নেমেছেন। দুপুর পর্যন্ত যে কয়টি ইলিশ পেয়েছেন বিক্রি করেছেন ১৫০০ টাকা। খরচ দিয়ে তাদের দুজনের থাকবে ১১০০ টাকা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে এই আড়তে ইলিশ ক্রয় করতে আসা তসলিম হোসেন বলেন, “এখানে এলে জেলেদের ধরে আনা তাজা ইলিশ ক্রয় করা যায়। দাম বেশি হলেও ভেজাল নেই। এক কেজি ওজনের ইলিশ আজকে ক্রয় করেছি ১৭০০ টাকা করে।”

এই আড়তের প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল জানান, ইলিশ মৌসুমে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার দুই পাড়ে কমপক্ষে ২০০ ছোট বড় আড়তে ইলিশ বিক্রি হয়। এখন ইলিশ কম-বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে নদীতে পানি কমে যাচ্ছে। এরপর আগামী মাসের শুরুর দিকে শুরু হবে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান। তখন জেলের অবসর হয়ে পড়বে। যদি ভাগ্য ভাল হয় আরও ২০-২৫ দিন জেলেরা ইশিল ধরতে পারবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম বলেন, “জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তারা এখন কম-বেশি ইলিশ পাচ্ছেন। উপকূলীয় স্থানীয় আড়তগুলোর ইলিশ সব পদ্মা-মেঘনার। এসব ইলিশের স্বাদ বেশি হওয়ায় চাহিদাও বেশি।”

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক]