০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এমপির ছেলের বিরুদ্ধে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের বিপরীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন মাকসুদ হোসেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 07:52 PM

Updated : 01 Oct 2026, 07:52 PM

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে ও তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা।

বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনেরও দাবি, সেখানে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কিন্তু পুলিশ গিয়ে তা সামাল দিয়েছে।

তবে মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস মাকসুদের অভিযোগ, আবুল কাউসার আশা এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনী যাওয়ার পথে শুভেচ্ছা জানাতে সকালে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে বিএনপির লোকজন অবস্থান নেয়। শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে দলবল নিয়ে তিনি হামলা চালান।”

এ সময় বাধা দিলে তাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকেও মারধর করে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন বলেও অভিযোগ নার্গিসের।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ বলেন, “পাশের একটি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। প্রতিপক্ষের লোকজন জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেখানে আমি একটি আধুনিক জিমনেসিয়ামও গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু হুমকির মুখে মালামাল সরিয়ে ফেলেছি।

“জমিটি দখলে নিতে দখলদারদের পক্ষ হয়ে এমপির ছেলে ও তার লোকজন এ হামলা চালিয়েছে,” অভিযোগ করেন তিনি।

তবে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কাউসার আশা বলেন, “আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে লাঙ্গলবন্দ গিয়েছিলাম। পরে কী হয়েছে, আমার জানা নেই।”

আবুল কাউসার আশা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর।

এদিকে মাকসুদ হোসেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তবে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলীয় পদ হারান তিনি।

ওই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন আতাউর রহমান মুকুলও। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালামের ভাই।

পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল কালামের বিপরীতেও সংসদ সদস্য প্রার্থী হন মাকসুদ হোসেন। স্বতন্ত্র এ প্রার্থী পরাজিত হলেও নির্বাচনের পর দুই প্রার্থীর অনুসারী-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছে।

পরে মাকসুদ হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসলেও এলাকায় তাকে দেখা যায় না। তার মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

মাকসুদের ছেলে শুভরও অভিযোগ, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে তাদের রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে হয়রানি করছেন বিএনপির লোকজন। হামলার পেছনেও ওই বিরোধ কাজ করেছে বলে ধারণা তার।

বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, হামলার কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ লিখিতভাবে দিলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে, থানায় মামলা করবেন না বলে জানিয়েছেন মাকসুদের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ।

তিনি বলেন, “পুলিশ নিজে ঘটনাস্থলে থেকে এখন সব অস্বীকার করছে। আমার মা থানায় গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশের কথাবার্তায় তাদের সহযোগিতার মনোভাব পাইনি। তাই, মামলা করে কোনো প্রতিকার পাবো বলে মনে হয় না।”