ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের দুজন আহত ও তিনজন নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ২
হামলা থেকে বাঁচতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।
ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের হামলায় সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের দুই ছাত্র আহত এবং ধাওয়ার সময় পালাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহতের ঘটনার মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ছাত্রলীগের হামলায় আহত সাজিদুল হাসান সজিব বাদী হয়ে শনিবার আট জনের নামে মামলা করেন। সেই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নয়ন মিয়া ও সংগ্রাম জোয়ার্দ্দার।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার বিকালে শহরের জোহান পার্কের সামনে ভেটেরিনারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস সাজিদুল হাসান সজিব, নুর হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। এ সময় মোটরসাইকেলে পালাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা খাম্বাবাহী ট্রাকে ধাক্কা লেগে নিহত হন ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মী।
নিহতরা হলেন- সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুশোবাড়ে গ্রামের বাদশা বিশ্বাসের ছেলে সাইফুজ্জামান মুরাদ, কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বলেশ্বরপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে তৌহিদ হাসান এবং যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পাড়াদিয়া গ্রামের রাখাল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে ও ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থী সমরেশ বিশ্বাস।
এ ঘটনায় আহত সাজিদুল হাসান সজিব ভেটেরিনারি কলেজের সাবেক ছাত্র ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফাহিম আহমেদকে প্রধান আসামি করে আটজনের নামে মামলা করেন।
রোববার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, এ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার বাদী সাজিব বলেন, “কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিভিএম ডিগ্রি প্রদানের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে ফাহিম আহমেদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় একজন সহসভাপতি তাদের একটি বৈঠকে ডাকেন।”
ওই বৈঠকে আসা শিক্ষার্থী সুকান্ত মণ্ডল বলেন, বৈঠকের আগে শুক্রবার বিকালে শহর থেকে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের কয়েকজন মোটরসাইকেলে গিয়ে কলেজের সামনে জড়ো হয়। তারা তখন সজিব ও নুরুকে খুঁজতে থাকে। সন্ধ্যার পর মুরাদ, সজিব, তৌহিদসহ তারা নয়জন তিনটি মোটরসাইকেল করে শহরে বৈঠকে যোগ দিতে আসেন।
“ফিরে যাওয়ার সময় জোহান পার্কের সামনে আমাদের ওপর হামলা হয়। সজীব ও নুরুকে কুপিয়ে জখম করা হয়। হামলা থেকে রক্ষা পেতে মুরাদ-তৌহিদ-সমরেশ একটি মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করেন। হামলাকারীরা তখন তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় মুরাদদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের খাম্বাবাহী ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন।”
হামলার আহত সাজিব ও নুরু দৌড়ে পাশের একটি বাড়তে আশ্রয় নেন। এরপর তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন:
