২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচনে রাত পোহালেই ভোট

ভোট নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির প্রার্থী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 12:47 AM

Updated : 29 Oct 2026, 01:38 AM

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন।

এরই মধ্যে এ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি সহ মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।

বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনি সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় উপকরণ। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় সেগুলো ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

সরঞ্জাম পরিবহনের সময় প্রধান সড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য মতে, ভোট ঘিরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৫ হাজার ৩০০ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ, ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার, ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির তিনজন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিনজন, ২৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন।

এ ছাড়া মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯০টি, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক ২৫ জন, বিদেশি পর্যবেক্ষক চারজন এবং দেশি ও স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়। এ আসনে উপ-নির্বাচন হবে ২৯ অক্টোবর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত।

উপনির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা রোমান ইসলাম বলেন, “আমরা ভোটের অপেক্ষায় আছি। একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে আমার পরিবারের ২০ জন ভোটার ভোট দিবেন।”

শহরের বসিরপাড়া এলাকার ভোটার কাশেম আলী বলেন, “আমরা চাই, এই আসনটি মাদকমুক্ত ও দুনীতিমুক্ত হোক। সেই সঙ্গে উন্নয়নও চাই। এজন্য অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিব।”

জামায়াতের অভিযোগ, বিএনপির অস্বীকার

এদিকে বুধবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনেরও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় রয়েছে।”

তিনি বলেন, “সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে দাঁড়িপাল্লায় বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তারপরও যদি ভোটে অনিয়ম হলে অবশ্যই আমরা দলীয়ভাবে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।”

তবে ১১ দলের প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন।

তিনি বলেন, “দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ধানের শীষের জোয়ার দেখে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা নানাভাবে ভোটকে বিতর্কিত করার পাঁয়তারা করছেন।

“এই এলাকার মানুষ অপেক্ষা করে আছেন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য। চারদিকে ধানের শীষের জয়জয়কার। আমি জয়ী হলে মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের মাঠে রয়েছে। আমরা আশা করি, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ ভোট শেষ হবে।”