০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘চাঁদার দাবিতে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রলীগের তালা’

চাঁদা না দিলে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকির একদিন পর ছাত্রলীগের দুই নেতা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেন বলে লিখিত অভিযোগে বলা হয়।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2023, 08:56 PM

Updated : 10 Aug 2023, 08:56 PM

চাঁদা না পেয়ে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ও কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে গত বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ওসি শাহ কামাল আকন্দ।

কলেজটির নিরাপত্তা কমিটির আহ্বায়ক সবুজ আহমেদের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার বিকাল কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বড়ুয়া ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌহিদুল ইসলাম আশরাফী অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইনের কক্ষে গিয়ে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অধ্যক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন।

এ সময় কক্ষে উপস্থিত ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম আনোয়ারুল হক ও রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান ছাত্রলীগ নেতাদের নিবৃত করার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাঁদা না দিলে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ছাত্রলীগের ওই দুই নেতা কক্ষ ত্যাগ করেন।

পরদিন (বুধবার) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ওই দুজন ফের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। তখন অধ্যক্ষকে না পেয়ে কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বড়ুয়াকে কল করলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌহিদুল ইসলাম আশরাফী বলেন, “১৫ অগাস্ট পালনের জন্য অধ্যক্ষের সহযোগিতা চাইলে তা তিনি করেননি।

“অধ্যক্ষ সরকারবিরোধী একজন লোক। এসব নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে।”

অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তৌহিদুল।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, ১৫ অগাস্ট নয়, নিজস্ব অনুষ্ঠানের জন্য ছাত্রলীগের ওই দুই ছেলে তার কাছে লিখিতভাবে ৮০ হাজার টাকা দাবি করেছে। টাকা দেওয়ার এখতিয়ার নেই জানালে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করে হুমকি দিয়ে পরদিন তালা লাগিয়ে দেন। যদিও গভীর রাতে এসে তালা খুলে দিয়ে যায়।

অধ্যক্ষ আলমগীর হোসাইন আরও জানান, এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পূর্বের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের যে সব শিক্ষার্থী ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হল কর্তৃপক্ষ সিট বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বিধি মোতাবেক সিট বরাদ্দ দেবেন এবং রাত ১২টার মধ্যে কলেজের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, অভিযোগ পেয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।