২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামে লোকগানে মুগ্ধ নরওয়ের রাষ্ট্রদূত

শিশুদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়া, লালন, বাউল, মুর্শিদী ও মারফতি গান শোনেন হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 11:59 PM

Updated : 21 Sep 2026, 11:59 PM

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে শিশুদের কণ্ঠে লোকগান শুনে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।

সোমবার বিকালে উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওডোবা গ্রামে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মায়ের তরী’ পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত।

বিষয়টি জানান সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ।

সেখানে শিশুদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়া, লালন, বাউল, মুর্শিদী ও মারফতি গান শোনেন তিনি। পাশাপাশি দোতারা, একতারা, সারিন্দা, বাঁশি ও তবলাসহ দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে শিশুদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও দেখেন।

পরে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, লোকসংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাস, জীবনসংগ্রাম ও পরিচয়ের অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে ‘মায়ের তরী’র মতো সংগঠনের কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সংস্কৃতির কোনো সীমানা নেই। এটি ভিন্ন দেশ ও ভাষার মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করে। লোকসংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নরওয়ের নাগরিক, লেখক ও লোকগবেষক উয়েরা সেথের লালমনিরহাটে এসে দীর্ঘদিন ধরে লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন। এটি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি ভালো উদাহরণ।

‘মায়ের তরী’র নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ বলেন, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় সংগঠনটির নয়টি গুরুগৃহ চালু রয়েছে। সেখানে প্রায় ৬০০ শিশু বিনা মূল্যে লোকসংগীত শিখছে। এ ছাড়া দুটি বাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২৫ জন শিক্ষার্থী দোতারা, একতারা, সারিন্দা, বাঁশি, তবলা, বেহালা ও খমক বাজানো শিখছে।

টাকার অভাব ও আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও না থাকায় লোকসংগীত সংরক্ষণে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান সুজন কুমার বেদ। তার ভাষ্য, অনেক প্রবীণ শিল্পীর কাছে থাকা পুরোনো গান রেকর্ড করা না গেলে সেগুলো একসময় হারিয়ে যেতে পারে।

পরিদর্শনকালে নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাস, স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজানুর রহমান, ‘মায়ের তরী’র সভাপতি প্রমোদ চন্দ্র বর্মণ ও সংগঠক ইউসুফ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।