ঈদযাত্রা: গাজীপুরে রাতভর যানজট, সকালে বৃষ্টিতে বেড়েছে দুর্ভোগ
একদিকে দীর্ঘ যানজট, অন্যদিকে পরিবহনে আসন সংকট-সব মিলিয়ে মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের।
স্বজন ও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজ গ্রামের দিকে ছুটছে মানুষ । কিন্তু এই যাত্রায় ভোগান্তি তৈরি করেছে যানজট, তা আরও বাড়িয়েছে বৃষ্টি।
গাজীপুরে মঙ্গলবার রাতভর তীব্র যানজটের কবলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঘরমুখো মানুষকে। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এরমধ্যে দেখা দেয় পরিবহনে আসন সংকট।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, “একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ মহাসড়কে আসায় সাময়িক যানজট তৈরি হয়েছে।”
হাইওয়ে পুলিশ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া থেকে চন্দ্রা এবং চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
একই সঙ্গে চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কের জিরানি বাজার পর্যন্ত যানজটে স্থবির হয়েছিল।
অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, সালনা, ভবানীপুর হয়ে মাওনা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যান চলাচল করছে।
একদিকে দীর্ঘ যানজট, অন্যদিকে পরিবহনে আসন সংকট-সব মিলিয়ে মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের।
বুধবার ভোরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একাধিক স্থানে পানি জমে বুধবার সকাল থেকে গাড়ির গতি আরও কমে যায়। থেমে থেমে ধীরগতিতে চলতে দেখা যায় যানবাহগুলিকে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন ও যানজটের মাত্রা কমতে থাকে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় বাসে করে গ্রামের বাড়ি বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন সফিকুল ইসলাম।
সকাল ৭টায় তিনি পৌঁছান চন্দ্রায়। তিনি বলেন, “১০ বছর ধরে ঈদের দুইদিন আগে বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাই। তবে মঙ্গলবারের মতো এমন অব্যবস্থাপনা কখনো চোখে পড়েনি। বাইপাইল থেকে যানজট তীব্র হয়েছে। চন্দ্রায় এসে এখন গাড়ি যেন সরছেই না। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে।”
তবুও তিনি বলেন, “হাজার কষ্ট হইলেও বাড়িতে যাওয়ার আনন্দই আলাদা।”
ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে পঞ্চগড়গামী যাত্রী আয়নাল হোসেন বলেন, “রাতে গাড়িতে ওঠার পরেই শুরু হয় গাড়ির ধীরগতি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা পূর্ব পাশের ১০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে ১০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। থেমে থেমে চলতে চলতে সকাল সাড়ে আটটার দিকে কোনাবাড়ি পৌঁছেছি।”
বেলা ১১টার দিকেও চন্দ্রা, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎসহ কয়েকটি এলাকায় শত শত যাত্রীকে পরিবহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে বাড়ি ফিরছেন।
গাজীপুর মহানগরের ভোগড়ার বাসিন্দা আকরাম হোসেনের গ্রামের বাড়ি রংপুর সদরে।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার বিকালে বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু ভোগড়া বাইপাস পেয়ারাবাগান বাস স্ট্যান্ডে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে সিট না পেয়ে আবার বাসায় ফিরে যাই।
“পরদিন বুধবার সকালে আবার বের হয়েছি। ভেবেছিলাম ঈদের আগের দিন যাচ্ছি, ভোগান্তি কম হবে। কিন্তু আজকেও একই অবস্থা। বরং আরো বেশি সমস্যায় পড়েছি।”
বাসে আসন সংকটের সঙ্গে বৃষ্টির ভোগান্তি যোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাধ্য হয়ে মই বেয়ে ট্রাকে উঠে বসেছি। ভাগ্যিস ট্রাকে ত্রিপল টানানো ছিল। তা না হলে বৃষ্টিতে ভিজেই ঈদযাত্রা শুরু হতো।”
নাওজোড় হাইওয়ে ওসি সওগাতুল আলম বলেন, “বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি বেড়েছে ঘরমুখী মানুষের। তবে আমরা আমাদের সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে। আশা করছি, দুপুরের মধ্যেই সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
