০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইনসাফ ও মর্যাদার বাংলাদেশের জন্য লড়াই করছে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

“সীমান্তে গণহত্যা আমরা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করব।”

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jul 2025, 06:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:19 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কৃষক-শ্রমিক ও ছাত্র-জনতার জন্য একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তাকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি কাজ করছে বলে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন। 

শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।  

নাহিদ বলেন, “আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এখনো হয়নি, আগের সিস্টেম এখনো রয়ে গেছে। সেই সিস্টেম বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য আমাদের এই নতুন পার্টি এবং আমাদের কর্মসূচি। সারা বাংলাদেশে আমাদের কর্মসূচি চলছে। আপনারা আমাদের হাতকে শক্তিশালী করবেন। তরুণ নতুন এবং বিকল্প নেতৃত্ব বেছে নেবেন।

“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন-কৃষক-শ্রমিক ও ছাত্র-জনতার একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। ইনসাফ ও মর্যাদার বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশর জন্য লড়াই করছে এসসিপি।” 

বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইনের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, “বিএসএফ সীমান্তগুলোতে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার হরণ করে। সেই সঙ্গে আমরা দেখি ভারতীয় মুসলিমদের অবৈধ অভিবাসী বলে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করা হয়। 

“আমরা হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই-এটা হাসিনার বাংলাদেশ নয়। এটা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পন্থীদের হাতেই বাংলাদেশ চলবে। সীমান্তে গণহত্যা আমরা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করব। ঠাকুরগাঁও জেলাসহ উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জেলাগুলো রয়েছে এখানে আঞ্চলিক বা অর্থনৈতিক বৈষম্য চলবে না।” 

জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে জোর দিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার ও নতুন সংবিধানের জন্য আমরা লড়াই করছি। অবশ্যই জুলাই আগস্টের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে এবং সাংবিধানিক ভিত্তি থাকবে জুলাই ঘোষণাপত্রে। 

“যে কারণে আমাদের হাজারও মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। আমরা তাদের স্মরণ করতে চাই তাদের আত্মত্যাগ। তাদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বাংলাদেশ হবে।” 

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক সমাজ অবহেলিত রয়েছে, তারা ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়না। আমরা সেই কৃষকদের জন্য কাজ করতে চাই। কারণ কৃষকের সন্তানেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, তারাই এই গণ-অভ্যুত্থানের ভূমিকা রেখেছিল। সেই কৃষকের সন্তান হয়ে এই ঠাকুরগাঁও থেকে নতুন বাংলাদেশের কথা আমরা বলছি।” 

পরে বেলা দুপুর আড়াইটার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চৌরাস্তা মোড়ে পথযাত্রা কর্মসূচিতে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।  

সেখানে নাহিদ বলেন, “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। তাই আমাদের এবারের স্বাধীনতা যাতে বেহাত না হয় সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে। এ কারণেই জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি গঠিত হয়েছে। আমরা এখন লড়াই করছি নতুন দেশ গঠনের। নতুন বাংলাদেশের। 

“যেখানে আর বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদ অন্যায় সন্ত্রাস চাঁদাবাজি। এজন্য যুব সমাজ কে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের স্বার্থে তরুণ সমাজ যতবার এগিয়ে এসেছে ততবার সফল হয়েছে।”

আগামী ৩ অগাস্ট বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য এনসিপি ইস্তেহার ঘোষণা করবে জানিয়ে নাহিদ বলেন, “আমরা স্বৈচারাচার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়বো। যেখানে বৈষম্য থাকবে না; ফ্যাসিবাদ থাকবে না। আমরা দেশে নতুন করে আর কাউকে স্বৈরাচার হতে দেব না।

“আমরা ভাতের অধিকার চাই, শিক্ষার অধিকার চাই ও সু-চিকিৎসার অধিকার চাই। আমরা অন্য কোনো দেশের দালালি করব না। আমরা জীবন দিয়ে ও রক্ত দিয়ে হলেও এদেশের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য এ দেশকে নতুন করে গড়ে তুলবো।”

এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম যারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ সেলিম সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে দলটির নেতাকর্মীরা দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রাওনা দেন।

এছাড়া পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সদরের জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার দুপুরে সংক্ষিপ্ত এক সভায় কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। 

নাহিদ বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা দেশটাকে আমরা নতুন ভাবে গড়ে তুলতে চাই। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসমুক্ত একটা দেশ হবে সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে যে সকল তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছিলাম তারা মিলে এই নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠন করে আপনাদের সঙ্গে নিতে এ দেশের জনগণের কথা বলতে চাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জুলুমের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে চাই। 

“নতুন দেশ গঠনে সারাদেশে আমাদের কর্মসূচি চলছে। জুলাই ঘোষণাপত্র, সংস্কার, বিচার ও নতুন সংবিধানের মাধ্যমে আমরা নির্বাচন চেয়েছি।”

তিনি বলেন, “নতুন করে যদি কোনো জমিদারি প্রথা, নতুন করে কোনো স্বৈরাচার-ফ্যাসিস্ট-চাঁদাবাজ তৈরি হয়, তার বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই করতে হবে, তার বিরুদ্ধেও কথা বলতে হবে। আমরা বাংলাদেশে যাতে নতুন করে কোনো ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি না করি। কোনো অন্যায়-জুলুম দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে।”

সারজিস আলমকে এলাকার গর্ব উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “সারজিস আলম শুধু আটোয়ারীর নয়, তিনি এখন সারা বাংলাদেশের। বাংলাদেশের মানুষের জন্য তিনি কথা বলছেন, লড়াই করছেন। তাকে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া আছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য এবং অবহেলার শিকার।”