২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঘেরে অক্সিজেন সংকট’, মারা গেল কয়েক কোটি টাকার মাছ

“অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে মাছের মৃত্যু হতে পারে। তবে মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

বিডিনিউজ২৪

আসাদুজ্জামান আসাদ. বেনাপোল প্রতিনিধি.

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 12:23 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

যশোরের শার্শা উপজেলায় দীর্ঘ সময়ের ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অক্সিজেন সংকট হয়ে’ কয়েক কোটি টাকার মাছ মরে ভেসে ওঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘের মালিক।   

উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের এ এফ মৎস্য খামারে শুক্রবার রাত থেকে লোডশেডিংয়ের কারণে মাছের মড়ক শুরু হয়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে। 

রোববার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।  

সোনামুখো বিলের এ ঘেরটি যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। 

খামার মালিকদের অভিযোগ, দিন-রাতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া যোগ হয়ে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। 

তাদের দাবি, ২০০ বিঘা ঘেরে ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে মাছের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১৫ কোটি টাকা ৫০ লাখ টাকা। মাছগুলো বাজারজাত ও ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলছিল। 

খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। এর বড় একটি অংশ বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরে বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “মাছের খাদ্য বাবদ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে নিয়েছি। সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করব, কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াব- কিছুই বুঝতে পারছি না।”

অপর খামারি ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল। রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে যায়। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পরে পচতে শুরু করে।” 

ঘের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানির ওপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে রয়েছে। কোথাও কোথাও মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম এক রাতের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা সজীব সাহা বলেন, “আমি মৎস্য ঘের পরিদর্শন করেছি। তিনটি ভেড়িতে প্রায় ৪ হাজার ২০০ মণ পাবদা জাতের মাছ মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। যার বাজার মূল্য ছয় কোটি টাকা। 

“অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে মাছের মৃত্যু হতে পারে। তবে মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর শার্শা জোনাল অফিসের এজিএম মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, বিদ্যুতের কারণে বাহাদুরপুরের ওই ঘেরে বহু মাছ মারা গেছে। বিষয়টি সত্যি না। সারাদেশের মত শার্শা অঞ্চলে শনিবার দিবাগত রাতে ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল। সেখানে তাদের অভিযোগটা সত্য না, ৩০০ বিঘা ঘেরে তাদের বিকল্প জেনারেটর থাকায় কথা থাকলেও সেটা ছিল না।”