নারায়ণগঞ্জে মা-শিশুকে গলা কেটে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
২০২২ সালের ৩ জুলাই টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে ওই নারী ও তার সন্তানকে হত্যা করা হয় বলে জানান পিপি।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় এক নারী ও তার শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ।
দণ্ড পাওয়া সাদিকুর রহমান (২৭) উপজেলার উজানগোবিন্দী এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে।
মামলার বরাতে পিপি আজাদ বলেন, ২০২২ সালের ৩ জুলাই সকালে উজানগোবিন্দী পশ্চিমপাড়ার নিজ বাসার মেঝে থেকে রাজিয়া সুলতানা কাকলী (৪৩) ও তার আট বছরের সন্তান মো. তালহার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের দুজনের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
পরে এ ঘটনায় রাজিয়ার মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বলে জানান তিনি।
পিপি বলেন, মামলাটির তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী সাদিকুরের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা একটি বটি এবং ঘর থেকে লুট হওয়ার স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করে পিবিআই।
পরে হত্যার দায় স্বীকার করে সাদিকুর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ।
তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী রাজিয়ার স্বামী আউয়াল কাজী ঘটনার দুই বছর আগে প্রবাসে থাকাবস্থায় মারা যান। ওই নারী তার সন্তানকে নিয়ে বাড়িটিতে থাকতেন। ভুক্তভোগী রাজিয়ার দুসম্পর্কের দেবর সাদিকুর ছিলেন নেশাগ্রস্ত।
“তদন্তে এসেছে, ঘটনার রাতে রাজিয়ার কাছে টাকা ধার নিতে যান সাদিকুর। টাকা না পেয়ে রাজিয়াকে খুন করেন সাদিকুর। ঘটনাটি রাজিয়ার শিশু সন্তান দেখে ফেলায় তাকেও খুন করা হয়।”
রায়ের পর আসামিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান।
