০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সুনামগঞ্জের প্রতিবন্ধীরা

কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ১২টি পদ থাকলেও সেখানে আছেন মাত্র পাঁচজন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Dec 2025, 07:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:15 PM

জনবল সংকটে সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে’ কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

দূর-দূরান্ত থেকে জেলা শহরের একমাত্র সেন্টারে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের। এতে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ প্রতিবন্ধীরা বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা সমাজসেবা ভবনের নিচতলায় ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’ রয়েছে। যেখানে প্রতিবন্ধিতার ধরন নির্ণয়, পুনর্বাসন, ফিজিওথেরাপি, শ্রবণ, দৃষ্টি ও ভাষা শিখন সেবা, অকুপেশনাল থেরাপি, অটিজম বিষয়ক সেবা, কাউন্সেলিং, সহায়ক উপকরণ বিতরণ, সচেতনতা কার্যক্রম ও পক্ষাঘাতগ্রস্তদের সেবা দেওয়ার কথা। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বয়স্ক লোকজনও নিয়মিত থেরাপি দিতে আসেন। 

কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ১২টি পদ থাকলেও সেখানে আছেন মাত্র পাঁচজন। জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন অফিসে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে হয়। 

সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা, তিনজন ক্লিনিক্যাল ফিজিও থেরাপিস্ট, একজন ফিজিও থেরাপি সহকারী, টেকনেশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি কর্মী দুজনের পদ শূন্য রয়েছে। এখানকার ফিজিও থেরাপির কনসালটেন্ট জেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাকে সেবা ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় ছয় হাজার ৯০৮ জন সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুই হাজার ৯৯৭ জন পুরুষ, এক হাজার ৫৮১ জন নারী ও দুই হাজার ৩৫১ জন শিশু রয়েছে। 

সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম রংপুরের আছিয়া বেগম বলেন, “আমার 

স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত। চিকিৎসক দেখানোর পর বলেছে, এক মাস থেরাপি দিতে হবে। আমার সাধ্য নেই তাকে প্রাইভেট থেরাপি দেওয়ার। তাই জেলা শহরে অনেক কষ্ট করে এসে সেবা নেই।

“তবে অনেক সময় লোকজন না থাকায় ফিরে যাই। অনেক সময় যারা দায়িত্ব পালন করেন তারাও সেবা দিতে অসহযোগিতা করেন। দিলেও নিয়ম মেনে থেরাপি সেবা দেন না।”

সুনামগঞ্জ প্রতিবন্ধী সংগঠনের পরিচালক তাজুল ইসলাম তারেক বলেন, “আমাদের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য সেন্টারে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিবন্ধীরা আসেন। পক্ষাঘাতগ্রস্ত বয়স্ক মানুষরাও নিয়মিত আসেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তারা অনেকে কষ্ট করে এসেও সেবা পান না। এতে প্রতিবন্ধীরাসহ সেবা নিতে আসা লোকজন শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তানজিল হক বলেন, “আমাদের ওখানে ১২ জনের মধ্যে সাতজনের পদই শূন্য রয়েছে। আমাকে সেবার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে হয়। তারপরও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। জনবল থাকলে জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য সংস্থা আরো ভালো সেবা দিতে পারত।”