সিরাজগঞ্জে রোগীকে ‘জাল সনদ’ দিয়ে চিকিৎসক কারাগারে
ফয়সাল আহম্মেদ সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জে রোগীকে জাল সনদ দেওয়ার মামলায় এক চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সাবেক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ সমন পেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (৩) বেলকুচি আমলি আদালতে হাজিরা দেন। তখন বিচারক ওবায়দুল হক রুমি তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার প্রধান সাক্ষী অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা মামলার বরাতে বলেন, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ বেলকুচি উপজেলার কদমতলি গ্রামে একটি মারামারি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওয়াজেদ আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই এলাকার মো. শাহজালাল বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে যুক্ত করা সার্টিফিকেট দিয়ে শাহজালাল দাবি করেন, মারামারিতে আহত হয়ে তিনি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আসামি ওয়াজেদ আলী বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। আদালতে আবেদন দিয়ে আসামি দাবি করেন, বাদী বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি মিথ্যা সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন।
আদালত আসামি ওয়াজেদ আলীর আবেদন আমলে নিয়ে অভিযোগের সতত্য যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেন। একজন নির্বাহী হাকিম অভিযোগের তদন্তের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
এরপর বিচারক ওবায়দুল হক রুমি আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুনকে এ বিষয়ে সদর থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন। মামলায় আইনজীবী, নার্স, ভুক্তভোগীসহ ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়।
আইনজীবী ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, মামলার পর আদালত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল।
চিকিৎসক ফয়সাল আহম্মেদ (৪০) তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া জগাই মোড় এলাকার বাসিন্দা।
