গোপালগঞ্জে পরিবেশবান্ধব ব্যাগের কারখানায় দিনে মিলবে এক টন ব্যাগ
“১ কেজির ব্যাগের দাম ১ টাকা এবং ২০ কেজির ব্যাগের দাম ১৯ টাকা প্রতি পিস পড়বে।”
দেখতে হুবহু পলিথিন ব্যাগের মতোই। কিন্তু পলিথিনের মত ক্ষতিকারক নয়। কারণ বায়ো-ডিগ্রেডেবল পলিমারের এ ব্যাগ মাটিতে মিশে যায়।
উৎপাদকদের দাবি, পচনশীল এই ব্যাগ পরিবেশের ক্ষতি করে না বরং মাটিতে পঁচে জৈব সার তৈরি করে।
গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার তাড়গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকালে জেকে পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে এক কারখানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এমন শপিংব্যাগ উৎপাদন শুরু হয়েছে ।
কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সিকদার কামাল বলেন, “বর্তমান সরকার ১ নভেম্বর থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পলিথিনের বিকল্প হিসাবে আমরা পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ উৎপাদন শুরু করেছি।”
তিনি জানান, কর্ণ স্টার্চ ও অন্যান্য উদ্ভিদজাত কাঁচামাল দিয়ে শপিং ব্যাগ তৈরিতে এর মধ্যেই জেকে পলিমার ইন্ডাস্ট্রিতে বসানো হয়েছে আমদানি করা তিন স্তরের অত্যাধুনিক মেশিন। এ মেশিনে প্রতিদিন এক টন শপিংব্যাগ উৎপাদিত হবে। যার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ পিস।
“এখানে তৈরি বিভিন্ন সাইজের শপিংব্যাগে ১ কেজি থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত ওজনের মালামাল বহন করা সম্ভব হবে। মানুষের দৈনন্দিন কেনা-কাটায় ব্যবহারে সুবিধা করে দেবে এ শপিং ব্যাগ।”
বাজারে প্রচলিত পলিথিনের তুলনায় পরিবেশবান্ধব এ ব্যাগ উৎপাদনে খরচ কিছুটা বেশি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এর মধ্যে ১ কেজির ব্যাগের দাম ১ টাকা এবং ২০ কেজির ব্যাগের দাম ১৯ টাকা প্রতি পিস পড়বে। তারপরও দেশ ও পরিবেশের কথা চিন্তা করে সবাই এটি ব্যবহার করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
বৃহস্পতিবার কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করে যমুনা টেলিভিশনের গোপালগঞ্জের সিনিয়র রিপোর্টার মোজাম্মেল হোসেন মুন্না বলেন, “পলিথিন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর। তার বদলে এ ধরনের পলি ব্যাগের ব্যবহার সম্প্রসারিত হলে পরিবেশ রক্ষা পাবে। তাহলে নতুন প্রজন্ম নির্মল পরিবেশ পাবে।
“দেশব্যাপী শিল্প মালিকরা পরিবেশ বান্ধব পচনশীল পলিথিন উৎপাদনে এগিয়ে আসবেন। এতে দেশের পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
