২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নাটোরে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

ভুক্তভোগীদের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় কাদিরাবাদ সেনানিবাসে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন আনোয়ার।

নাটোরে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

র‍্যাব-৫ এর অভিযানে গ্রেপ্তার  মো. আনোয়ার হোসেন।

নাটোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Apr 2024, 02:13 PM

Updated : 25 Apr 2024, 02:13 PM

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাকে ‘প্রতারক’ বলছে র‍্যাব। 

বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বাগাতিপাড়ার বিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র‍্যাব-৫ সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রায়হান শফিক। 

গ্রেপ্তার মো. আনোয়ার হোসেন (২৯) বিলপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে। তার কাছ থেকে দুইটি ভুয়া নিয়োগপত্র, অন্যান্য পাঁচটি কাগজপত্র জব্দ করা হয়। 

এর আগে আনোয়ার হোসেনের প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা হারানোর অভিযোগে মামলা করেছেন পাবনার আতাইকুলার শ্রীকল চরপাড়া এলাকার শামসুর রহমানের ছেলে মো. মোকতার হোসাইন (৪২) এবং একই এলাকার আনসার আলীর ছেলে মো. দুলাল হোসেন (৩৪)। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বরাতে রায়হান শফিক বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ‘অফিস সহায়ক ও ড্রাইভিং ট্রেড’ পদে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে আনোয়ার হোসেন কৌশলে মোকতার হোসাইনের কাছ থেকে ৬ লাখ ২৯ হাজার এবং দুলাল হোসেনের কাছ থেকে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  

ভুক্তভোগীদের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় কাদিরাবাদ সেনানিবাসে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন আনোয়ার।কিন্তু ২৫ নভেম্বরে তিনি ভুক্তভোগীদের জানান চাকরিতে নিয়োগের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে, পরবর্তী তারিখ ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি। 

পরে গত ১৬ জানুয়ারি ভুক্তভোগীরা তাকে মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পান। তখন ভুক্তভোগীরা নিয়োগপত্র স্থানীয়দের দেখালে বুঝতে পারেন যে, তাদের ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। 

পরে তারা বাদি হয়ে বাগাতিপাড়া থানায় আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। 

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার আনোয়ার চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। 

তিনি কম্পিউটারে এডিট করে সেনাবাহিনীর মনোগ্রামসহ সিলমোহর ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে পাঠাতেন। 

এভাবে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানান ওই র‍্যাব কর্মকর্তা।