হাতিয়ায় মাছ ধরার নৌকায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ বাবুর্চি
“সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে উপরের দিকে উঠে যাওয়া কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নৌকায় রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে বাবুর্চি দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটে মেঘনা নদীর তীরে ‘মাস্টার মাঝি’ নামের একটি মাছ ধরার নৌকায় এ ঘটনা ঘটে বলে চেয়ারম্যান ঘাট পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. আবদুল বাতেন জানান।
দগ্ধ ৬০ বছর বয়সী বাবুর্চি হেমা মাঝি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর বসু গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, চেয়ারম্যান ঘাটের আড়তদার নিজাম উদ্দিনের ‘মাস্টার মাঝি’ নৌকাটি দুইদিন আগে নদীতে মাছ ধরে ঘাটে ফেরে। নৌকার মাঝিরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেলেও হেমা নৌকায় একাই ছিলেন।
ঘটনার সময় নৌকায় চুলাতে রান্না করছিলেন হেমা। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে নৌকার কাঠগুলো খুলে আলাদা হয়ে যায়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন হেমাকে উদ্ধার করেন এবং জালসহ মাছ ধরার সামগ্রী নৌকা থেকে সরিয়ে নেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্মরত ওয়ার্ড বয় জহির উদ্দিন বলেন, রাত ১০টার দিকে হেমাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পরমর্শ দেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে হেমা মাঝির চিকিৎসা ফাইলে তার শরীরের ৩৫ শতাংশ বার্ন হয়েছে বলে লেখা হয়েছে। তার দুই হাত, দুই পা, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলসে গেছে।
এসআই মো. আবদুল বাতেন বলেন, “ঘটনার সময় নৌকায় রান্না করেছিলেন হেমা মাঝি। সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে উপরের দিকে উঠে যাওয়া কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার সময় নৌকার অন্য জেলে ও মাঝি মাল্লারা তাদের বাড়িতে ছিলেন।”
ঘটনাটি চেয়ারম্যান ঘাট ক্যাম্পের পাশে হলেও নদীতে হওয়ায় এ বিষয়ে নৌ পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
