টাঙ্গাইলের গ্রামে গ্রামে চোখ ওঠার প্রকোপ
চিকিৎসক বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস কেউ ব্যবহার করলে সেও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
টাঙ্গাইলে ১২ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চোখ ওঠা প্রকোপ বাড়লেও ‘চিকিৎসকের অভাবে’ বিপাকে পড়েছেন আক্রান্তরা।
এসব উপজেলার হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় গ্রামাঞ্চলের রোগীরা জেলা শহর ও উপজেলার প্রাইভেট ক্লিনিকের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
গত কয়েক কয়েকদিন জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী ও ঘাটাইলসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব বয়সের লোকজন চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে তাদের মধ্যে শিশুরাই বেশি।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ব্রাদার্স ব্রাদার্সের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আশিকুর রহমান সুরুজ বলেন, “চোখ ওঠার কারণে আমার চারজন কর্মচারীর মধ্যে তিন জনকেই ছুটি দিতে হয়েছে।”
কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর গ্রামের সোহাগ ও আরিফ জানান, হঠাৎ করেই তাদের চোখ রক্তের মতো লাল হয়ে ফুলে গেছে। কিন্তু উপজেলা হাসপাতালে চোখের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তারা একটি প্রাইভেট চোখের হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে চোখের ড্রপ দিচ্ছেন।
ঢাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহমেদ আবদুস সালাম বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস যে ব্যবহার করবে সেই আক্রান্ত হতে পারে।
“চোখ ওঠা রোগ থেকে বাঁচতে নিজেকে সচেতন হতে হবে। চোখে কালো চশমা পরতে হবে এবং ড্রপ দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।”
এই রোগে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই বলেও জানান এই চিকিৎসক।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সুবাহান বলেন, একে বলা হয় কন্জাঙ্কটিভাইটিস বা চোখের আবরণ কন্জাঙ্কটিভারের প্রদাহ। সমস্যাটি ‘চোখ ওঠা’ নামেই পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে, ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, “কন্জাঙ্কটিভাইটিসের লক্ষণ হলো চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, খচখচ করা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়, তারপর অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এই হাসপাতালে চোখের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকলেও চোখ ওঠা নিয়ে যারা আসছেন, তাদের আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চোখের ডাক্তার না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, চোখের প্রাথমিক চিকিৎসাগুলো উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত এমবিবিএস ডাক্তাররাই দিয়ে থাকেন। পর্যাপ্ত সংখ্যক চোখের রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় উপজেলা হাসপাতালগুলো দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
