২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইউপি নির্বাচনে আ. লীগ প্রার্থীর জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

রাজশাহীর বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের সহযোগী ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

রাজশাহী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Oct 2016, 07:59 PM

Updated : 11 Oct 2022, 08:49 PM

আলমগীর হোসেন নামের এই ব্যক্তি বর্তমানে বাগমারা উপজেলা জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক বলে ওই দলের নেতারা জানান।

গত ৭ মে চতুর্থ দফায় বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু এর দুইদিন আগে ৫ মে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম। আর বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন আলমগীর হোসেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্থগিত ওই ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচন।

নতুন তফসিলে নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্র থেকে বাগমারার এই ১৬ ইউনিয়নের জন্য দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের কাছে চিঠি ইস্যু করেছে। গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে প্রার্থী পরিবর্তন করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আলমগীর সরকারকে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান-উল হক মাসুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি ইস্যু করা হয়। দলের সভানেত্রীর স্বাক্ষরিত ১৬টি চিঠি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি গ্রহণ করেন।

ওই সময় আলমগীর সেখানে উপস্থিত থাকায় তার কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয় বলে জানান মাসুদ।

তিনি বলেন, ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন হয়েছে। গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আব্দুস সালামের পরিবর্তে আলমগীর সরকার, হামিরকুৎসায় আনোয়ার হোসেনের পরিবর্তে ছাবিনুন নাহার ও যোগিপাড়ায় সোহাগ হোসেনের পরিবর্তে মোস্তফা কামালকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকালে দলের সব প্রার্থীর কাছে মনোনয়নের চিঠি পৌঁছানো হয়েছে বলে জানান মাসুদ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার দলীয় মনোনয়নের জন্য জেলার কাছে কোনো তালিকা চাওয়া হয়নি। কেন্দ্র থেকে সরাসরি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আসাদ বলেন, আলমগীর সরকারের বাড়িতে ২০০৪ সালে জেএমবি নেতাদের বৈঠক হতো, তা সবাই জানে। তার ভিডিও চিত্র রয়েছে। তিনি কীভাবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তা জানা নেই।

গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ২০০৪ সালে আলমগীর সরকার ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর সরকার জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে তালিকা তৈরি করা হতো। সে তালিকা অনুযায়ী জেএমবির সদস্যরা আওয়ামী লীগ কর্মীসহ এলাকার লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও চাঁদা আদায় করত।

জাহেদুল বলেন, ২০১২ সাল থেকে আলমগীর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুর সংস্পর্শে থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। ওই সময় আলমগীরকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হলেও এক বছর পর দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু তালেব বলেন, আলমগীর সরকার উপজেলা জাতীয় পার্টির বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক। তার বাবা জব্বার সরকার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর আলমগীরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ ব্যাপারে আলমগীর সরকার বলেন, ওই সময়ের রাজশাহীর পুলিশের এক কর্মকর্তার নির্দেশে তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম সরকার জেএমবির নেতাদের তার বাড়িতে বৈঠক করার সুযোগ দিয়েছিলেন।

আপ্যায়নের জন্য তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

আগামী ৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। যাচাইবাছাই হবে ৭ অক্টোবর। প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ অক্টোবর।

২০০৪ সালের ২০ মে  নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় ইদ্রিস আলী ওরফে খেঁজুর আলী ও আব্দুল কাইয়ুম বাদশাকে হত্যা করে বাংলা ভাই ও তার সহযোগীরা। এরপর বাদশার মরদেহ উল্টো করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং খেজুর আলীকে টুকরো টুকরো করে লাশ পুঁতে ফেলা হয় মাটিতে।

গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখার সেই ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে দেশজুড়ে রাতারাতি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘বাংলা ভাই’ নামটি। ২০০৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সরকার জেএমবি ও জেএমজেবির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ওই বছর ১৭ অগাস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা ফাটিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সংগঠনটি।  

২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে বাংলা ভাইকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। এর চারদিন আগে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শায়খ রহমানকে।

ঝালকাঠি জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলাভাইসহ ছয় শীর্ষ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।