২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলা: পাবনা বিএনপির আহ্বায়কের ভাইয়ের নামে মামলা

মামলায় ছয়জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাত পরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

পাবনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 07:57 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:29 PM

পাবনার ঈশ্বরদীতে গুলি করে প্রাইভেট কার থামিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ভাইয়ের নামে মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার ছয় দিন পর মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার। 

মামলায় ছয়জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাত পরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। 

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছোট ভাই বিপুল হোসেন বুদু। অন্যদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর শিমুলতলা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার রাতে ৪১ বছর বয়সি শরিফুল নিজ প্রাইভেট কার চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে আসামিরা গুলি করে গাড়ির গতিরোধ করেন। এ সময় হামলাকারীরা দেশি অস্ত্রে নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। 

এজাহারের এক নম্বর আসামি হত্যার উদ্দেশে খুব কাছ থেকে শরিফুলের পায়ে ও মুখে গুলি করেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম এবং গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে স্থানীয় মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে শরিফুল ওই পদের প্রত্যাশী ছিলেন। 

তবে অন্য একজন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শরিফুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন।

মামলার পর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শরিফুল দাবি করেন, “জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশেই আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলাকারীরা সবাই তার অনুসারী।”

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অভিযোগ অস্বীকার করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “হামলার ঘটনায় আমি কিংবা আমার পরিবারের কেউ জড়িত না।”

উল্টো স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শরিফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন বিএনপির এই নেতা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ থানায় উপস্থিত হয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনায় গুলি করে গাড়ি থামিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম