ভারতীয়দের ঘোষণার পর হিলিতে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক
ভারতের ব্যবসায়ীরা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের মত সুযোগ-সুবিধা চেয়েছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীদের ঘোষণার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির কাজ বন্ধ হয়েছে। তবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার বিকালে হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিন্স কুমার কুণ্ডু বলেন, “সারাদিন এ বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি বা রপ্তানি হয়নি। এই সিদ্ধান্তটা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নিজস্ব ব্যাপার। তাই আমরা তাদের চিঠি লিখতে পারি না। দুই দেশের বিষয় হলে আমাদের করণীয় থাকত। তবে আমদানি-রপ্তানি না থাকায় হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব কমবে।”
অপরদিকে হিলি ইমিগ্রেশন থানার ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপারে কোনো সমস্যা নেই।
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, শনিবার রাতে ভারতের ‘হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ থেকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় ভারতের হিলি স্থলবন্দর কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।
এ কারণে ভারতীয় হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাই সেখানকার সৃষ্ট জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তারা রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে কোনো পণ্য রপ্তানি না করার এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলা হিলি সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে- আদা, ব্লিচিং পাউডার, সাজিনা, গম, ভূষি, ভুট্টা, বাদাম, পাথর, জিরা, বিভিন্ন প্রকারের ডাল, কাজুবাদাম, চিটাগুড় ইত্যাদি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাচ্ছে প্লাস্টিক ফার্নিচার, বিস্কুট, জুস।
“ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিকালে আমরা কথা বলেছি। তারা বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের মত সুযোগ-সুবিধা না পেলে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বন্দর ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।”
তিনি বলেন, “আমদানি ব্যাহত হলে দেশে পণ্যের দাম বাড়বে। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে। এ নিয়ে কূটনৈতিকভাবে কথা বলা উচিত।”
বাংলা হিলি স্থলবন্দর ট্রাক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, “শুধু ট্রাক মালিক নন, ট্রাক শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রোববার কোনো কাজ ছিল না। হয়তবা কেউ না খেয়ে থাকবে। শ্রমিকরা ভারতীয় ট্রাক থেকে মালামাল নামাত, টাকা পেত। এখন তো সেটা হচ্ছে না। আমরা এটার সমাধান চাই।”
আরও পড়ুন:
