সিরাজগঞ্জে জন্মের পর নবজাতককে হত্যা, মা ও স্বজনরা পলাতক
রাতে মেয়ে সন্তান প্রসবের পর তাকে হত্যা করে পরদিন সকালে বাড়ির পেছনে মাটি চাপা দিতে গর্ত করার সময় আশপাশের লোকজন টের পায়।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় জন্মের পর এক নবজাতককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে শিশুটির মা ও স্বজনরা পলাতক রয়েছেন।
বুধবার ভোরে উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া ভুতের দিয়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
নিহত নবজাতকের মা জান্নাতুল ফেরদৌস ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, এক বছর আগে ওই ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের নবী মণ্ডলের ছেলে করিম মণ্ডলের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর বনিবনা না হওয়ায় স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান জান্নাতুল।
এ অবস্থায় করিম দ্বিতীয় বিয়ে করলে সেই স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের পরামর্শে ২৭ অক্টোবর তাকে অতিরিক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে।
নবজাতকের দাদা নবী মণ্ডলের দাবি, “জান্নাতুলের গর্ভে করিমের সন্তান আস্তে আস্তে বেড়ে উঠলেও বিষয়টি গোপন রাখে তার পরিবার। মঙ্গলবার রাতে বাবার বাড়িতে একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করেন জান্নাতুল। এরপর নবজাতককে হত্যা করে লাশ বাড়ির বাথরুমে রাখা হয়।
“ভোরে নবজাতকের লাশ মাটি চাপা দিতে বাড়ির পেছনে গর্ত করার সময় আশপাশের লোকজন টের পান। ঘটনা জানাজানি হলে জান্নাতুল ও স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। ওরা আমার ছেলের শেষ স্মৃতিটুকুও বাঁচতে দিল না।”
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন নবী মণ্ডল।
এদিন দুপুরে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
