হাওরে ফসল ডুবির প্রভাব ধান সংগ্রহে
সরকার গত ৩ মে জেলায় ধান সংগ্রহ শুরু করার পর তিন সপ্তাহ সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২০ শতাংশের মত।
এপ্রিলের আগাম বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের হাওরের কৃষক বোরো ধান তুলতে গিয়ে যে ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে, তার প্রভাব পড়ছে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহেও।
সরকার গত ৩ মে জেলায় ধান সংগ্রহ শুরু করার পর তিন সপ্তাহ সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২০ শতাংশের মত।
কৃষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত যতটুকু ধান তারা বাঁচাতে পেরেছেন, তাতে সংসারের চাহিদা মেটানোই কঠিন হবে, সরকারি গুদামে দেওয়ার কথা তারা ভাবতেও পারছেন না।
দেশের খাদ্যশস্যের একটি বড় জোগান আসে হাওর থেকে। বোরো মৌসুমে সারা দেশে যে পরিমাণ ধান পাওয়া যায়, তার ২০ শতাংশের মত যোগান দেয় হাওর অঞ্চলের ছয় জেলা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা সুনামগঞ্জে ১৯৩টি ছোট-বড়ো হাওর ও বিলে বোরো আবাদ হয়। চলতি বছর জেলায় সোয়া দুই লাখ হেক্টর আবাদ হয়েছিল।
কিন্তু এপ্রিলের শেষভাগের বৃষ্টিতে জেলায় ২০ হাজার ১২০ হেক্টর আবাদকৃত জমি ডুবে ধান নষ্ট হয়। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০ হাজারের বেশি কৃষক পরিবার।
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার হারুন অর রশিদ কৃষি অধিদপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী একজন ‘বড়’ কৃষক, কারণ তার জমির পরিমাণ ৭৫০ শতকের বেশি।
প্রতি বছর তিনি হালির হাওর থেকে সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ মণ ধান গোলায় তোলেন। বৈশাখের ধান কাটার উৎসব ‘দাওয়ামারি’ শেষে ঘরের খোরাকির জন্য পর্যাপ্ত ধান শুকিয়ে রেখে বাকিটা সুবিধামত সময়ে সরকারি গুদামে দেন বা খোলা বাজারে বিক্রি করেন।
হাওরে কেবল বোরো মৌসুমেই ধানের আবাদ করা যায়। সেই ধান বিক্রির টাকায় তিনি সংসার, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরের মৌসুমের চাষের জন্য কিছুটা সঞ্চয় তুলে রাখেন।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে টানা বৃষ্টিতে তার কিছু কাচা ধান ডুবে যায়। তখনও হালির হাওরে তার ধান মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু এপ্রিলের ২৫ তারিখের পর থেকে টানা বৃষ্টিতে চোখের সামনে তার স্বপ্ন ডুবতে থাকে।
অনেক কষ্ট ও টাকা খরচ করে কিছু ধান তিনি কাটাতে পেরেছিলেন। তার কিছুটা ভিজে, পচে নষ্ট হয়েছে। বাকিটা তিনি রক্ষা করতে পেরেছেন। তবে আবাদের তুলনায় রক্ষা পাওয়া ধানের পরিমাণ মাত্র এক পঞ্চমাংশ।
হারুন অর রশিদ জানান, এবার তিনি ৩ হাল (১ হালে ১২ কিয়ার, এক কিয়ারে ৩৩ শতাংশ) জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। সব মিলিয়ে এখন তার ঘরে দেড়শ মণের কিছু কম ধান আছে। বাকি প্রায় সাড়ে ৫০০ মণ ধান পানিতে নিয়ে গেছে।
এবার সরকারি গুদামে কত মণ ধান দিতে পারবেন জানতে চাইলে হারুন উদাস ভঙ্গিতে বলেন, “গতবার তো ৩০০ মণ ধান গুদামে দিয়েছিলাম। এবার খোরাকি রাখার পর আর গুদামে দেওয়ার মত কিছু ভাঁড়ারে (ধান রাখার মাচা ঘর) অবশিষ্ট নেই। যে অল্প ধান আছে, তারও গুণাগুণ ঠিক নাই। তাই এসব ধান গুদামে রাখা যাবে না। এবার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি কাটানো মুশকিল।”
প্রায় একই ধরনের কথা বললেন উপজেলার পাগনার হাওরের ফেনারবাক গ্রামের ‘বড়’ কৃষক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী ছানা।
তিনি হাওরে ৪২ কিয়ার জমির ধান চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ কিয়ার জমির ধান কাটিয়েছিলেন হাতে কাটা শ্রমিক দিয়ে। প্রতি কিয়ার ধান কাটতে তার শ্রমিক বাবদ খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। সেই ধানের একটা অংশও পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
এবার তার খোরাকিতে টান পড়বে; আর গো-খাদ্যও মজুত করতে পারেননি। হালির আর পাগনার হাওরের প্রায় সব কৃষকের একই অবস্থা বলে জানালেন তোফায়েল আহমদ।
তাহলে গুদামে কীভাবে ধান দেবেন জানতে চাইলে তোফায়েল বলেন, “গুদামে ধান দেওয়া তো দূরের কথা। খোরাকিই আমাদের মজুদ নেই।”
অবশ্য তার ভাষ্য, গুদামে ধান দেওয়ার সুযোগ কেবল সদর উপজেলার কৃষকরাই পান। তার মত দূরের কৃষকরা সেই সুযোগ পান না।
সরকারি খাদ্য গুদামে সাধারণ সম্পন্ন গৃহস্থরাই ধান দিতে পারেন। মাঝারি কৃষকরাও কিছু দেন। কিন্তু ছোট বা ভাগি কৃষকদের বাস্তব কারণেই সেই সুযোগ থাকে না। সবচেয়ে বেশি ধান দেন ব্যবসায়ীরা, আর চাল দেন মিল মালিকরা।
হারুন অর রশিদ, তোফায়েল আহমদদের কথার সত্যতা মিলল জামালগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ দেখে।
এবার প্রতিকূল পরিস্থিতি আর বিরূপ আবহাওয়ার কারণে হাওরের জেলাগুলোতে ধান-চাল সংগ্রহের সময় এগিয়ে এনেছিল সরকার। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এবার ৩ মে থেকে সুনামগঞ্জে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান-চালের সংগ্রহ শুরু হয়।
সরকারিভাবে সুনামগঞ্জ জেলায় এবার ২১ হাজার ৩৪৯ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৩৭৩ টন। ৩ মে থেকে কোরবানির ঈদের ছুটির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ২০ দিনে সেখানে মাত্র ১২৬ টন ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। গত বছর এই পরিমাণ ছিল অনেক বেশি।
খাদ্য গুদাম কর্তপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক কৃষক ধান নিয়ে এলেও তারা রাখতে পারছেন না; কারণ জলাবদ্ধতা আর বৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত্রে ধানের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ‘তরজা’
চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের হাওরের প্রত্যেক উপজেলার কৃষকই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সদর, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, শান্তিগঞ্জ, মধ্যনগরসহ কয়েকটি উপজেলার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যাপকভাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে হাওরে এক লাখ ৬৫ হাজার এবং নন-হাওরে (মূলত ফসলরক্ষা বাঁধের বাইরে) ৫৮ হাজার ২৩৬ হাজার হেক্টর আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের ২৩ মের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাওরে এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান কর্তন হয়েছে। হাওরে কর্তনের হার ৮৯.৮৪ শতাংশ। নন-হাওরে ৫৩ হাজার ৭৯৬ হেক্টরে ধান কাটা হয়েছে। সেখানে কর্তনের হার ৯২.৩৮ শতাংশ।
সরকারি হিসাবে, জেলার হাওরে প্রায় পৌনে চার লাখ ছোট-বড় ও মাঝারি কৃষক আছেন। সরকারিভাবে সুনামগঞ্জে ৬৪ হাজার ৩৮৪ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যারা টানা তিন মাস তিন হাজার টাকা ও ১৫ কেজি চাল প্রণোদনা পাবেন। ২৫ মে থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সহায়তা বিতরণ শুরু করেছেন।
কৃষি বিভাগ যে হিসাব দিয়েছে, তাতে হাওরে ১০ শতাংশের কম ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সরকারি তালিকা অনুযায়ীই, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১৭ শতাংশের বেশি।
ফলে কৃষি বিভাগের ক্ষয়ক্ষতির এই তথ্য নিয়ে প্রশ্ন আছে কৃষক, হাওর বাঁচাও আন্দোলন ও স্থানীয় রাজৈনিতক নেতাকর্মীদের। তাদের ভাষ্য, সরকারিভাবে যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতি তার থেকে অনেক বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মত।
সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, “হাওর এলাকার জায়গাভেদে কৃষকের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। তাই যারা গুদামে ধান দিতে পারতেন তারা এবার ধান দিতে পারছেন না। যে কারণে গুদামে ধান সংগ্রহে গতি নেই।
“তাছাড়া কৃষি বিভাগ প্রকৃত তথ্য আড়াল করায় আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ যে প্রতিবেদন দাঁড় করিয়েছে তা বাস্তবতা বর্জিত। কারণ তাদের হিসেবে মাত্র ১০ ভাগও ক্ষতি হয়নি। অথচ গড়ে অর্ধেক ক্ষতি হয়েছে হাওরে।”
যদিও সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা ক্ষতি হয়েছে, আমরা তাই তুলে ধরেছি।”
‘ঘরে ধান নাই গুদামে দিব কোত্থেকে’
শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের সাত্তারপুর গ্রামের ছায়ার হাওরের কৃষক এরশাদ আলী এবার ৩০ কিয়ার জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। হাওর ডুবে তার ২৫ কিয়ার জমির পাকা ধান ডুবে গেছে। পাঁচ কিয়ার জমির ধান কাটলেও পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “বিরাট ক্ষতি হয়েছে এবার। এই ক্ষতি পোষাবার নয়। গত বছর সরকারকে আমি গুদামে ৩০০ মণ ধান দিছিলাম। কিন্তু এবার এক মণও দিতে পারব না। ঘরে ধান নাই দিব কোত্থেকে। টিকে থাকা কঠিন হবে আমার জন্য।”
একই উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের ছায়ার হাওরের কৃষক সুজন দাস বলেন, “গত বছরের চেয়ে এ বছর আমি দ্বিগুণ জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। গত বছর গুদামে ৮০ মণ ধান দিয়েছিলাম সরকারকে। এবার কোনো ধান দিতে পারব না।
“সাত-আট কিয়ার জমির ধান কেটেছি, তাও বৃষ্টির কারণে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ধান কালচে হয়ে গেছে। শুকানোর পর চালের গুড়ি বেরিয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় অনেক বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, “আমাদের হিসাবে এবার অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্যোগের মধ্যে যারা ধান কেটেছিলেন তাদের কাটা ধানও পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আড়াল করেছে। যে কারণে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
তিনি বলেন, “কৃষি বিভাগের তথ্যের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ তিনগুণ বেশি। কৃষকের কাছে ধান না থাকার কারণেই গুদামে ধান সংগ্রহের হারও কম।”
‘লক্ষ্যচ্যুত’ লক্ষ্যমাত্রা
খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয় জানায়, জেলায় চলতি বছর ২১ হাজার ৩৪৯ টন ধান, ১৭ হাজার ৭০৪ টন সিদ্ধ চাল এবং নয় হাজার ৩৪৭ টন আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে সরকার।
২৫ মে পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার ৭৭৩ টন ধান সংগ্রহ করা গেছে। আর সিদ্ধ চাল চার হাজার ৬৪৮ টন এবং আতপ চাল এক হাজার ৯৮১ টন সংগৃহিত হয়েছে।
উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে দিরাইয়ে। সেখানে দুই হাজার ৯৮৫ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩৮৮ টন।
আর তুলনামূলক হিসাবে, সবচেয়ে কম ধান সংগ্রহ করা হয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে দুই হাজার ১২১ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ১২ টন ধান সংগৃহিত হয়েছে।
এ ছাড়া শাল্লা উপজেলায় দুই হাজার ২১২ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৪২ টন, তাহিরপুরে এক হাজার ৫৯৪ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৩০ টন, বিশ্বম্ভরপুরে ৯৫৬ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র নয় টন, জগন্নাথপুরের দুটি গুদামে যথাক্রমে এক হাজার ২৮৬ টন ও ৬৯৬ টনের বিপরীতে মধ্যে মাত্র চার ও ২০ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। জেলা বাকি ছয় উপজেলায়ও সংগ্রহের তথ্য হতাশাব্যাঞ্জক।
‘আর্দ্রতার পরিমাপ ছাড়া ধান রাখার সুযোগ নেই’
সরকারি গুদামে ধান রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে ধানের আর্দ্রতার পরিমাপ সঠিক থাকা। সাধারণত শুকনো ধানের আর্দ্রতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে হলে সেটি গুদামজাত করার উপযোগী হয়।
একটি যন্ত্র দিয়ে ধানের আর্দ্রতা পরিমাপ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ধান গুদামজাত করার সিদ্ধান্ত নেন। না হলে সেই ধানে পোকা বা ফাঙ্গাস হতে পারে।
কৃষকরা যে ধান নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে আসছেন, অনেক ক্ষেত্রে তাতে আর্দ্রতার পরিমাপ ঠিক থাকে না। এ কারণে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
আবার সব কৃষক সরাসরি গুদামে ধান দিতে পারেন না। মান্যুয়াল ও ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে সেটি নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন ধরে ধরে তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে সেই লাটারি হয়। প্রতিটি কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান দিতে পারেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহিনুর রেজা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির কারণে কৃষকরা গুদামে ধান দিতে পারছেন না। কারণ আর্দ্রতার পরিমাপ ছাড়া ধান রাখার সুযোগ নেই। এ কারণে গুদামে ধান সংগ্রহ হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম।”
তাহিরপুর উপজেলার ওসি এলএসডি (লোকাল স্টোরেজ ডিপোর্ট) অভিনাশ চন্দ্র দাস বলেন, “এবার হাওরের অনেক কৃষকের ফসল ডুবে গেছে। অনেকে ধান কাটার পরও শুকাতে না পারায় পচে নষ্ট হয়েছে। তাই ধান সংগ্রহে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে ঈদের পরে ধান সংগ্রহ বাড়বে।
“কারণ আমরা প্রথমে সদর ইউনিয়নে লটারি করেছিলাম। তিন দিন আগে অন্যান্য ইউনিয়নেও লটারি করেছি। যে কারণে ধান সংগ্রহ বাড়বে।”
শাল্লা উপজেলার ওসি এলএসডি বকুল বৈদ্য বলেন, “চলতি বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাল্লার কৃষকদের। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্য গুদামগুলোতে। আমরা মাত্র ১৪২ টন ধান সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ২১২ টন।”
