‘পাঁচই লাগবে, ভিপি নুরের নির্দেশ’: যুব অধিকারের বহিষ্কৃত নেতা কারাগারে
অডিও ভাইরালের পর বহিষ্কার করা হয় লক্ষ্মীপুর যুব অধিকার পরিষদের সভাপতিকে।
‘পাঁচ, পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না, এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ’- এমন কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হলে মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করে টাকা চাওয়ার অভিযোগে লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসাইনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন সদ্য বিলুপ্ত জেলা গণঅধিকার পরিষদ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী।
মামলায় ফারুক হোসাইনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ফারুক নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতেন। এ বিষয়ে তাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হলেও তথ্য-প্রমাণের অভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি ফারুকের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৪১ সেকেন্ডের ওই অডিওতে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ডের কাজের জন্য টাকা দাবি করতে শোনা যায়।
অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘পাঁচ, পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না বাবা... এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ।’
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় ফারুককে সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর নিজের ফেইসবুক পোস্টে ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তিনি লেখেন, “আমার নাম বলে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) বলা হয়েছে।”
মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ফারুকের বক্তব্যে নুরুল হক নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। তার বক্তব্যের কারণে মানুষের মধ্যে নুর ও সংগঠন সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের আগে ফারুক হোসাইন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে তিনি পাঁচ হাজার টাকার কথা বলেছিলেন। সেই পাঁচ হাজার টাকাকেই এআই ব্যবহার করে পাঁচ লাখ টাকা বানানো হয়েছে।
ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
