আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘরে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ, পুলিশ বলছে হত্যা
প্রতিবেশীরা বলেন, নতুন ভাড়া নেওয়া ঘরটির দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার কক্ষটি থেকে দুর্গন্ধ আসায় তারা পুলিশে খবর দেন।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
শুক্রবার গভীর রাতে আশুলিয়ায় মধ্য জামগড়া এলাকায় হাজী হযরত আলীর চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪২), তার স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৩) একই উপজেলার বড় মাগুড়া পাকপাড়া এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান।
আলমগীর হকারি করে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। নাজমা স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় সুইং হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। তবে নাজমার দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আলমগীর।
ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, অগাস্ট মাসের ৯ তারিখে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিল। প্রতিবেশীরা জানিয়েছে ঘরটির দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার ওই কক্ষটি থেকে পচা দুর্গন্ধ আসায় তারা তাৎক্ষণিক পুলিশকে ফোন দেয়।
নাজমার বোন শাপলা আক্তার বলেন, ২০২২ সালে আলমগীরের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে নামজমা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই রাতেই ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিন সকালে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে দুইজনের লাশ দেখতে পায়। এ ছাড়া ঘরে সদ্য নবজাতকের লাশও পাওয়া যায়।
আশুলিয়া থানার এসআই রাসেল হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় আলমগীরের গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। এতে ধারণা করা হয় শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে কাজ করে যাচ্ছেন।
ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, নাজমা আক্তারের বোন শাপলা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে বোন ও ভগ্নিপতির লাশ শনাক্ত করেন। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
