০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বর্ণালংকারের লোভে নারীকে হত্যার পর শিশুকে নদী‌তে নিক্ষেপ: পুলিশ

মাদারীপুরের শিবচরে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 06:51 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

মাদারীপুরের শিবচরে স্বর্ণালংকারের লোভে এক নারীকে হত্যার পর তার এক বছরের সন্তানকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুইজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের।

শুক্রবার দুপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।

আটক ব্যক্তির নাম ফারুক মোল্লা।

বুধবার সকালে উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি ঝোপের পাশ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার করা হলেও তার সন্তানকে এখনো খুঁজে পায়নি পুলিশ।

নিহত শাম্পা খাতুন (২৮) নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি মাদারীপুর সদর উপ‌জেলার বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের স্ত্রী। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছে শাম্পার এক বছর বয়সি ছেলে আবির।

ঘটনার পরদিন শাম্পার বাবা শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে এক‌টি গাড়ি চুরির অভিযোগে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় ফারুকের বাসা থেকে শাম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার তৈরি গলার চেইন, একজোড়া জুতা ও ওড়না উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে নিহতের এক বছর বয়সি ছেলে আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে হত্যার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার হয়নি।

সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন কাদের, প্রায় তিন বছর আগে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে শাম্পার বিয়ে হয়। একটি মামলায় শাহাবুদ্দিন কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সঙ্গে শাম্পার পরিচয় হয়। 

“সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে শাম্পাকে ডেকে নিয়ে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে রাখেন ফারুক। এ সময় শাম্পার সঙ্গে থাকা ছেলে আবিরকেও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।