গ্রাহকের আঙুলের ছাপ ‘ক্লোন’ করে তোলা সিম যেত অপরাধীদের হাতে, গ্রেপ্তার ৩
বাগেরহাটে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ডিজিটাল বিভিন্ন ডিভাইস ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বাগেরহাটে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ ‘ক্লোন’ করে সিমকার্ড তুলে অপরাধীদের কাছে বিক্রির ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল বিভিন্ন ডিভাইস ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা গ্রেপ্তারের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
বুধবার রাতে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কার্ত্তিকদিয়া গ্রামের মামুন আলী খাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারা হলেন- মো. মামুন আলী খাঁ (৩০), মো. জিহাদ বিশ্বাস (২৩) এবং মো. লিটু বিশ্বাস ওরফে বাবু (২২)। তারা কার্ত্তিকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
এদিন দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম বলেন, গোপন খবর পেয়ে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ নকল করে বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড তুলে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, এসব সিমের কারণে সমস্যায় পড়েন সাধারণ গ্রাহকরা। যখন ফোনের মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংগঠিত হয়, তখন সাধারণ গ্রাহকদের নাম সামনে চলে আসে।
পুলিশ সুপার বলেন, “সাধারণ গ্রাহকরা কোনো কাস্টমার কেয়ারে নতুন সিমকার্ড তুলতে গেলে তাদের একাধিক বায়োমেট্রিক আঙুলের ছাপ নিয়ে রাখে চক্রটি। পরে ওই গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে নতুন সিমকার্ড তুলে অপরাধীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রির করত তারা।
“এই কাজটি তারা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। এমন একটি চক্রকেই ধরা হয়েছে। এদের একটি বড় র্যাকেট রয়েছে। এই চক্রে জড়িত অন্য সদস্যদেরও ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি ফিঙ্গার স্ক্যানার মেশিন, চারটি ইউএসবি পোর্ট, গ্রামীণফোনের ২১টি অব্যবহৃত সিমকার্ড, প্লাস্টিক পেপারের উপর আঙুলের বায়োমেট্রিক সম্বলিত ছয়টি ছাপ, নিবন্ধনের কাজে ব্যবহৃত একটি মার্কিং টেপ ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
