বিসিএসে গেজেটভুক্ত হলেন নীলফামারীর সোহেল রানা
সোহেল রানা বলেন, “আমার মায়ের দোয়া ও আপনারা (গণমাধ্যম) যদি সহযোগিতা না করতেন তাহলে আমার এই স্বপ্ন অসম্পূর্ণ হয়ে থাকতো।”
৪৯তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ পড়া নীলফামারীর মো. সোহেল রানা অবশেষে গেজেটভুক্ত হয়েছেন।
সোমবার ৪৯তম বিসিএসের বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ জনের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে কৃষক পরিবারের সন্তান সোহেল রানার।
গেজেটে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনের সর্বোচ্চ যে চাওয়াটা ছিল, সেটি পূর্ণ হয়েছে। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।’
“আমার মায়ের দোয়া ও আপনারা (গণমাধ্যম) যদি সহযোগিতা না করতেন তাহলে আমার এই স্বপ্ন অসম্পূর্ণ হয়ে থাকতো।”
এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৬৮৩টি পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে মনোনয়ন দিয়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। সেই তালিকায় ইতিহাস বিষয়ে প্রথম ছিলেন সোহেল।
পরে তিন দিন আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সে গেজেটে নাম ছিল না সোহেল রানার।
এতে বিস্মিত ও হতাশ হয়ে পড়েন সোহেল ও তার পরিবার। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা ব্যাপক আলোচনায় আসে। তখন সোহেল জানিয়েছিলেন, কী কারণে তার নাম গেজেট থেকে বাদ পড়েছে, তা তিনি জানেন না।
এ গেজেট প্রকাশের পর বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ৫ অক্টোবর জারি করা হবে।
অবশেষে নির্ধারিত দিনেই নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে সোহেল রানাসহ ৪০ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেন সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের পথও পরিষ্কার হল সোহেল রানার।
সোহেল রানা সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেন ও গৃহিণী শাহিদা বেগমের ছেলে।
অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে তিনি সোনারায়-সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪ দশুমক ৯২ অর্জন করেন।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন সোহেল। সেখানে ২০২০ সালে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫৪ নিয়ে স্নাতক এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩দশমিক ৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
