২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

পদ্মায় ভাঙন: মুন্সীগঞ্জে দিঘিরপাড় বাজারের ছয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন তীব্র হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

পদ্মায় ভাঙন: মুন্সীগঞ্জে দিঘিরপাড় বাজারের ছয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন
পদ্মার ভাঙনে বিলীন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় বাজারের দোকান ঘর।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2025, 08:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

পদ্মায় তীব্র স্রোতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় বাজার ও নদী তীরবর্তী এলাকায় আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিলীন হয়েছে ছয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার রাতে আকস্মিক শুরু হওয়া এই ভাঙন হুমকিতে রয়েছে পুরো বাজার। বুধবার সকাল থেকে ভাঙন হুমকিতে থাকা বাকি ঘরগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সকাল থেকে নদীতে ব্লক বা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন এত তীব্র হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনরোধে দিঘিরপাড় থেকে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকার কাজে ধীরগতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশের বেশি।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাত থেকে দিঘিরপাড় বাজারে ভাঙন শুরু হয়েছে। রাতেই ছয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পদ্মায় বিলীন হয়েছে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে পারেননি কেউ। পুরো ঘর নদীতে তলিয়ে গেছে। তবে পাশের ঘরগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্রোতের তোড়ে বাঁধের জন্য ফেলা ব্লক ও জিও ব্যাগ ভেসে গেছে। 

প্রাচীন এই দিঘিরপাড় বাজার আগেও সাতবার নদীতে বিলীন হয়েছে। আবার ভাঙনের মুখে রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই বাজার।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. তমিজ বলেন, “আগে এখানে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন হয়েছে। ড্রেজিংয়ের কারণে যে গভীরতা তৈরি হয়েছে, সেটির কারণেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যে জিও ব্যাগ ফেলছে, তা পর্যাপ্ত নয়। তারা কয়েকটি ব্যাগ দিয়ে চলে যায়, এরপর আর খোঁজ নেয় না।”

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বেপারী বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে দিঘীরপাড় বাজারসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম যেমন- সরিষাবন, হালদার বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হাই কোর্টে বালু উত্তোলন বন্ধে রিট হয়েছে কিন্তু দিনে বন্ধ থাকলেও রাতে কাটার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হয়।”

দিঘিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাউসার সোহেল মিজি বলেন, “বাঁধ নির্মাণ কাজে যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত, তারা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করেন। এতে করে কাজে অবহেলা হচ্ছে। সরকার পতনের পরও কাজের গতি বাড়েনি। প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে এই বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ হয়।”

২০২১ সালের এপ্রিলে পদ্মায় ভাঙন প্রবণ এলাকায় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের ১৫ কিলোমিটারে সবশেষ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, “আমাদের প্রকল্পে ২৬টি প্যাকেজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি স্থায়ী। ব্লক ভিত্তিক স্থায়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছে নয় দশমিক এক কিলোমিটার। ১৮টি প্যাকেজের সবগুলোতেই কাজ চলছে। প্রকল্পের গড় অগ্রগতি ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ। 

“কাজের অগ্রগতি রয়েছে। কোনো কাজ বন্ধ হয়নি। নদী ভাঙনের মধ্যেও আমাদের প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি চলমান আছে। ব্লক কাস্টিং, ব্লক ডাম্পিং, বালুর বস্তা ডাম্পিং সবই চলছে। ৩৩ হাজার ব্যাগের মধ্যে প্রায় সবগুলো জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ সাইজের সিসি ব্লক এবং ৪৫ সাইজের সিসি ব্লক প্রস্তুতের পাশাপাশি ডাম্পিংও চলছে।”

প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত; সময়ের আগেই কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।

ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখানে আগেও জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, কিন্তু পানির স্রোতের কারণে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে ঘর হারানো ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র দেখে ক্ষতিপূরণের দেওয়া হবে।

এখানে দীর্ঘদিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। যৌথ বাহিনীর অভিযানও হয়েছে। তবে পাশের জেলা শরিয়তপুর থেকে ড্রেজার নিয়ে এসে রাতে বালু কাটার অভিযোগ পাওয়ার কথা বলেছেন ইউএনও। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।”