০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বগুড়ায় বাসের সাইড বক্সে মিলল ১০৩ টিয়া, পরে অবমুক্ত

নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ‘মেথ টিয়া’ ও ‘লাল মাথা টিয়া’ প্রজাতির এসব পাখি উদ্ধার করা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 06:03 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

বগুড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে সাইড বক্সের ভেতর খাঁচাবন্দি ১০৩টি টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়েছে; যেগুলো পাচারের উদ্দেশে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ভাষ্য পুলিশের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন বগুড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা দুলাল কুমার সাহা।

পুলিশ জানায়, গোপন খবর পেয়ে বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ।

বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (শিবগঞ্জ সার্কেল) রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী আল বারাকা ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের সাইড বক্সের ভেতর ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা ১০৩টি ‘প্যারাকিট টিয়া’ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা পাখিগুলোর মধ্যে ‘মেথ টিয়া’ ও ‘লাল মাথা টিয়া’ প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা দুলাল কুমার সাহা।

তিনি বলেন, এসব টিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের পাহাড়ি এলাকার বুনো পাখি। খাদ্যের তাগিদে বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচখেতে এগুলো যখন চলে আসে, তখন একশ্রেণির অসাধু লোক ধরে অবৈধভাবে কেনাবেচা ও পাচারের চেষ্টা করে। 

পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব না হওয়ায় তাৎক্ষণিক মামলা করা হয়নি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এসব বুনো টিয়া ধরা বা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাসটি আটক করার আগেই পাখি বহনকারী ব্যক্তি পালিয়ে যান।

তিনি বলেন, বাস চালক ও সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। পাচারকারী চক্রটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। 

তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা হিসেবে নিয়মিত মামলার কথা বলেছেন পুলিশ সুপার।