লক্ষ্মীপুরে ‘মাদকসেবীদের’ হামলায় আহত কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
আহত যুবক রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় একদল যুবকের হামলায় আহত এক কলেজ ছাত্র চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলাকারীরা ‘মাদকাসক্ত’ বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনার ছয় দিন পর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মমিনুল হক।
নিহত আশরাফুল ইসলাম উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
ঘটনার দুই দিন পর আশরাফুলের বাবা আজিজুল বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় ১৬ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে আসামি শাহিন বেপারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার শাহিন উত্তর চরবংশী গ্রামের বেপারী বাড়ির মোস্তফা বেপারীর ছেলে।
অন্য আসামিরা হলেন- নাহিদ বেপারী, হাবিব বেপারী, সুফিয়ান বেপারী, নজু বেপারী, শাকিল বেপারী, সোহাগ বেপারী, মোক্তার পাটওয়ারী, শাকিল পাইক, রাকিব পাইক ও শামিম। তারা উত্তর চরবংশীসহ আশপাশ এলাকার বাসিন্দা।
এজাহার থেকে জানা গেছে, ১৪ জানুয়ারি রাতে উত্তর চরবংশী গ্রামের ডালি কান্দি এলাকায় সিকদার বাড়ির পূর্ব ডালি কান্দি বিলে নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীর নেতৃত্বে একদল যুবক আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে দেশি অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আশরাফুলকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যান তারা। খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার কিছুদিন আগে শাহিনসহ তিনজনকে মাদকসহ আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। শাহিনের সন্দেহ, আশরাফুল তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেন। ১৪ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হয়ে শাহিন তার সঙ্গীদের নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়।
আশরাফুলের চাচাতো ভাই ফারহান খান নাদিম বলেন, “আশরাফুলের মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পিটিয়ে জখম করা হয়। হামলায় আশরাফুলের মস্তিষ্ক প্রচণ্ড জখম হয়। সে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিল। সেখানেই মারা যায়।”
পুলিশ পরিদর্শক মমিনুল হক বলেন, গ্রেপ্তার শাহিনসহ আসামিরা মাদক ব্যবসায় ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
