টেকনাফ উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৪
৩২ আরোহী নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার সময় শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন সাগরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার সময় কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলেরা। উদ্ধারের পর তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান বলেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে একদল রোহিঙ্গা নৌকায় করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
নৌকাডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জেলেদের বরাত দিয়ে আব্দুল মন্নান বলেন, “নৌকাটিতে মোট ৩২ আরোহী ছিলেন। এখনও নৌকাটির মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।”
শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়ার জেলে মো. ইসমাইল বলেন, “উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যুবকের দেওয়া তথ্য মতে, সকালে মাঝিসহ ৩২ আরোহী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। আমরা ১৮ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।
“তবে আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনও নারী বা শিশু নেই।”
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “হেফাজতে নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিচয়, বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে আরও প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
