শাহজালাল মাজারে পঞ্চমবারের মতো দানের টাকা গণনা করা হচ্ছে
মাজারের দানবাক্স ও ডেগে দেশি টাকার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা, ভক্তদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া গেছে।
সিলেটের হযরত শাহাজালালের (র.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সে ভক্তদের দেওয়া টাকা পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা চলছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আজকে এক মাস আটদিন পর আমরা পঞ্চমবারের মতো এই মাজারের দানের টাকার গণনা করছি।”
শনিবারের গণনায় মাজারের দানবাক্স ও ডেগে দেশি টাকার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। ভক্তদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া গেছে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সে অনুযায়ী টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয়ের জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন গণনার ব্যবস্থা চালু করা যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন “আপাতত মাসে একবার দানের টাকা গণনা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যার জন্য সিভিও জমা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। তারপর মাজারের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে।
এর আগে গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ অগাস্ট তৃতীয় দফায় গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা।
১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা গননা। চতুর্থ দফার গননায় নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া যায়।
চতুর্থ দফার গণনা শেষে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া যায়।
