শরীয়তপুর বার নির্বাচনে ফরম কিনতে বাধা, লাঞ্ছনার অভিযোগ
বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও নির্বাচন কমিশন এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র কিনতে বাধা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থিদের বিরুদ্ধে।
রোববার ফরম কেনার শেষ দিনে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও নির্বাচন কমিশন এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আইনজীবীরা বলেন, রোববার ছিল বার নির্বাচনের মনোনয়নপত্র তোলার শেষ দিন। এদিন সকাল থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে বিএনপিপন্থি নেতারা অবস্থান নেন। সেখানে প্রতিপক্ষের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র তুলতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়।
তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র তুলেছেন।
এনসিপির নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন খান বলেন, “আমি নির্বাচনের ফরম কিনতে গেলে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও বহিরাগত লোকজন আমাকে বাধা দেয় এবং লাঞ্ছিত করে।
“পরে আমি আমার চেম্বারে চলে আসি। সেখানেও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এসে আমাকে লাঞ্ছিত করে।”
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতা ও আইনজীবী মুরাদ হোসেন মুন্সী বলেন, “আমি সহসভাপতি পদে মনোনয়ন কেনার জন্য ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাজ দিয়েছিলাম। এ কারণে নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির লোকজন নিয়ে আমার চেম্বারে এসে আমাকে মারধর করে মারাত্মক আহত করেছেন।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাওয়া জয়নব আক্তার ইতি বলেন, “আজকে সাধারণ আইনজীবীদের পক্ষে ফরম কিনতে গেলে বিএনপিপন্থি আইনজীবী এবং তাদের লোকজন আমাকে ফরম কিনতে বাধা দেয় এবং হেনস্থা করেন।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবী তাজুল ইসলাম, তৌহিদ কোতোওয়াল।
তাজুল ইসলাম বলেন, “আমি ফরম তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় এবং আমাকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।”
এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। সেখানে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
বিক্ষোভ থেকে জানানো হয়, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে সভাপতি পদে কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মৃধা নজরুল কবীর নির্বাচন করবেন।
আইনজীবী কামরুল হাসান প্রতিপক্ষের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিষিদ্ধঘোষিত ফ্যাসিবাদের সমর্থকরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছে। আসলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির বলেন, “আমি নির্বাচনের দায়িত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার শাহাদাদ হোসেন বলেন, “আমরা যথাসময় পর্যন্ত ফরম বিক্রির জন্য কার্যালয়ে ছিলাম। এ সময় কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
আইনজীবীরা বলেন, শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ২০২৬-২৭ ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। যেহেতু বিএনপিপন্থিদের বাইরে অন্য কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি ফলে তারাই হয়ত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
