কুড়িগ্রামে আড়াই কোটি টাকার খাদ্য লোপাটের চেষ্টা, দুদকের অভিযান
এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগের দুটি গুদাম সিলগালা করে দিয়েছে দুদক।
কুড়িগ্রামে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে আড়াই কোটি টাকার খাদ্য লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ।
রোববার ও সোমবার দুদকের একটি দল অভিযান চালিয়ে ৫২৭ টন ধান ও ৩৫ টন চাল ঘাটতির পাশাপাশি ১২০ টন চাল লোপাটের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুটি খাদ্য গুদামে সিলগালা করে দেয়।
খাদ্য বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. সাবদারুল ইসলাম।
এদিন সন্ধ্যায় তিনি বলেন, “জেলা ও সদর উপজেলা ১৪টি খাদ্য গুদামের মধ্যে আটটিতে ৫২৭ টন ধান ও ৩৫ টন চালের কোনো হদিস মেলেনি। অথচ খাদ্য বিভাগের কাগজ কলমে দেখানো হচ্ছে, উধাও হওয়া এই ধান ও চাল গুদামেই সংরক্ষিত আছে।
“অপরদিকে গুদামে ১২০ টন চাল মজুত থাকলেও নথিপত্রে কোনো তথ্য নেই। মূলত আত্মসাতের জন্য এসব চাল বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়।”
খাদ্য গুদামের তালিকা ঘেঁটে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, “৮০ কৃষকের কাছ থেকে তিন হাজার কেজি করে ধান সংগ্রহ করার কথা কাগজপত্রে দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সঠিক নয়।
“এর মধ্যে যাচাইয়ের জন্য তাৎক্ষণিক আটজনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে কেউ গুদামে ধান সরবরাহ করেননি বলে জানান। অন্যরা জানান, তারা কৃষক নন, তাদের নম্বর কারা খাদ্য বিভাগে দিয়েছে তাও জানেন না।”
দুদকের অভিযানের সময় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এলাহী অটো রাইস মিলসহ বিভিন্ন রাইস মিলে ঘাটতির চাল মজুদ আছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানান সাবদারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়মূল্য হিসেবে প্রতি কেজি ৩৪ টাকা করে ৫২৭ টন ধানের মূল্য এক কোটি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং প্রতি কেজি ৫০ টাকা করে ৩৫ টন চালের মূল্য ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা; যা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ১২০ টন চাল আত্মসাতের করার উদ্দেশে গুদামে বিশেষভাবে মজুদ করা হয়েছে বলে দাবি দুদক কর্মকর্তা সাবদারুল ইসলামের।
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন, “খাদ্য বিভাগে দুদকের অভিযান চলমান রয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে কী পরিমাণ অনিয়ম-অসঙ্গতি ধরা পড়েছে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।”
এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হামিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওছার হাবিব ও কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক জোবেদ আলীকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেন সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি বলে জানান মোহাম্মদ কাজী হামিদুল।
