বিনম্র শ্রদ্ধায় সারাদেশে বিজয় দিবস পালিত
দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ, শরীর চর্চা ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।
সারাদেশে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে, ডিসপ্লে, কুচকাওয়াজ ও শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানে লাল-সবুজ উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেছে বাংলাদেশের মানুষ।
বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা প্রথম প্রহর থেকে এসব অনুষ্ঠান করেন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ফেনী
শুক্রবার ভোরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
শহরের জেল রোডে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা শ্রদ্ধা জানায়।
ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, ফেনী সরকারী বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলা ও শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়।
বাগেরহাট
ভোরে তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের সূচনা হয় এ জেলাতেও। পরে শহরের দশানী এলাকায় শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠন।
সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ, শরীর চর্চা ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসন।
লক্ষ্মীপুর
ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় চত্বর স্মৃতি সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক মো. আনায়ার হোছাইন আকন্দ।
এরপর শহরর বাগবাড়ি গণকবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধ নিবেদন শেষে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আনায়ার হোছাইন আকন্দ, পুলিশ সুপারসহ, জেলা মুক্তিযাদ্ধা সংসদর নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মাগুরা
মাগুরায় ভোরে তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৭টায় স্থানীয় নোমানী মাঠে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা।
পরে জেলা প্রশাসন সকাল সাড়ে ৯টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পুলিশ ও আনসারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ কামাল ইনডোর স্টেডিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বেনাপোল
শুক্রবার সকালে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখসহ স্বাধীনতার সাত সূর্যসন্তানের সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠন। শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া করা হয়।
বিজিবি মহা-পরিচালকের পক্ষে যশোর- ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে যশোর বিজিবির পক্ষে শার্শা উপজেলার কাশিপুর হাইস্কুলে মাঠে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ব্যাংদা হাইস্কুলে মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। সেখানে ৯৫ জন পুরুষ ও ২৬০ জন নারীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
