২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বগুড়ায় হাট-বাজারে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার চলছে আগের মতই

নিষিদ্ধ হওয়ার পর পলিথিনের দাম বাড়ায় বিক্রেতারা সেই টাকা তুলে নিচ্ছেন পণ্যের দাম বেশি রেখে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Nov 2024, 07:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:54 AM

নিষিদ্ধ হলেও বগুড়ার সব হাট-বাজার-দোকানে আগের মতই চলছে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার। 

ক্রেতারা কোনোকিছু কিনলেই পলিথিন ব্যাগে ভরে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন দোকানিরা। 

বগুড়া শহরের বড় কাঁচাবাজার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, খান্দার বাজার, বউ বাজারসহ উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। 

বাজারকারীর হাতে মাছ, মাংস, সবজি, ডাল, কিংবা অন্য যেকোনো পণ্য পলিথিন ব্যাগে ভরেই দিচ্ছেন বিক্রেতারা। 

ক্রেতারাও বলছেন না, কেন পরিবেশবিরোধী নিষিদ্ধ পলিথিনে এসব দেওয়া হচ্ছে। 

নিষিদ্ধ হওয়ার পর পলিথিনের দাম বাড়ায় বিক্রেতারা সেই টাকা তুলে নিচ্ছেন জিনিসের দাম বেশি রেখে।  

পরিবেশের সুরক্ষায় দুই যুগ আগেও পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তা যেন ভুলেই গেছেন মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অভিযানের কথা জানানো হয়।

একইসঙ্গে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। 

এর বিরুদ্ধে অভিযানও নেমেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। 

তবুও বিকল্প না থাকার অজুহাতে ঢাকাসহ সারাদেশের স্থানীয় ছোট-বড় সব হাট-বাজারে পলিথিনে পণ্য দেওয়া হচ্ছে আগের মতই।

বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে ফল বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, “ফল কিসে দেব? কেউ ব্যাগ নিয়ে না এলে পলিথিন ব্যাগে দিই। রাজাবাজার থেকে ব্যাগ কিনি। আগে ছিল দুই শত টাকা কেজি, এখন পলিথিন ব্যাগ প্রতি কেজি সাড়ে তিনশ টাকায় কিনি। তাই ব্যাগের দামটাও ধরে নিই ফলের মধ্যে।” 

রাজাবাজারের সবজির দোকানদার কুদ্দুস আকন্দ বলেন, “কী করব ভাই?  পলিথিন ব্যাগে দিতে না চাইলে ক্রেতারা নিতেও চায় না। অন্য ব্যাগের দাম বেশি। বেশি টাকায় ব্যাগ নিয়ে যখন বিক্রি করতে যাব তখন ওই টাকাও উঠাতে হবে।”

ক্রেতা জলেশ্বরীতলার তাসমিয়া বললেন, “মাংস নিয়েছি, মাছ নিয়েছি, মুরগি জবাই করে নিয়েছি। সঙ্গে বিভিন্ন সবজি আছে। এক ব্যাগে নিলে সব মাখিয়ে ফেলব। তাই আলাদা পলিথিনে নিয়েছি।”

কিন্তু নিষিদ্ধ জিনিস কেন ব্যবহার করছেন, এমন প্রশ্নে কোনো কথা না বলেই চলে যান তিনি।

এদিকে, অপরিচিত কেউ শহরের পলিথিনের দোকানে গিয়ে কিনতে চাইলে বিক্রেতারা বলছেন, তারা এখন আর পলিথিন বিক্রি করেন না। অথচ তাদের পরিচিত দোকানদারদের কাছে ঠিকই বিক্রি করছেন।  

বগুড়ার এখনো অবৈধ পলিথিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়নি। 

ছোটখাটো অভিযান চললেও কঠোর অভিযান না থাকায় অবৈধ কারখানায় রাতের বেলায় পলিথিন তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিসিক শিল্পনগরী বগুড়ার সভাপতি মো. মিল্টন বলেন, “আমার জানা মতে, বিসিকের মধ্যে একটি পলিথিন তৈরির কারখানা আছে। বিসিক এলাকা লাগোয়া আরও ৬-৭টি কারখানা আছে বলে জানি। 

“বিসিকের কারখানাটি দিনের বেলায় বন্ধ দেখি। রাতে কী করে জানি না। তবে লোকমুখে শুনেছি, রাতে বিসিকের ভেতরের ও বাইরের কারখানা চালু করা হয়।”

পলিথিন তৈরির কাঁচামালের আমদানি বন্ধ না করে বাইরে অভিযান চালিয়ে লাভ হবে না বলে মনে করেন তিনি।

বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহাথির আহাম্মদ বলেন, “আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। শহরের রাজাবাজারে পাইকারী দোকানেও অভিযান চালিয়ে পলিথিন জব্দ করেছি। বিসিক শিল্প নগরীতে গিয়ে কারখানা বন্ধ পেয়েছি। তবে কতগুলো অবৈধ পলিথিন কারখানা আছে তা আমরা জানি না।”