০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আবু সাঈদ হত্যা: চাকরি গেল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ জনের

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 10:45 PM

Updated : 01 Oct 2026, 11:06 PM

চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা হলেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম। মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান পলাতক এবং শরিফুল ইসলাম কারাগারে আছেন।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন- তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া, কর্মচারী আনোয়ার পারবেজ আপেল এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।

উপাচার্য শওকাত আলী বলেন, “শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি গত পরশুদিন পেয়েছি। কপি পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।”

এর আগে ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়; যারা কারাগারে আছেন।

এ ছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়।

পলাতক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।