০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে ভাতার কথা বলে ঘুষের অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার দাবি করেন ওই নেতা।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 10:24 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাওয়ার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবু দাউদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বাবু স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অব্যাহতি পাওয়া মো. আব্দুল খালেক পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হয়। এতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. হাসনুর রশিদ পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মোলানীপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও ইমাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসনুর রশিদের অভিযোগ, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি ভাতা দেওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি মসজিদ কমিটির সঙ্গে কথা বলেন। কমিটির পক্ষ থেকে তার নাম তালিকায় পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।

তার দাবি, মো. আব্দুল খালেক ও মো. আইবুল হক তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রথমে ৩০ হাজার টাকা চান। পরে ১০ হাজার টাকা দিলে নাম তালিকায় দেওয়া হবে বলে জানান। টাকা দিতে না পারলে নাম দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাসনুর রশিদ বলেন, টাকা দিতে না পারায় আব্দুল খালেকের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান আকাশসহ কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে মসজিদের চাবি ফেরত চান। পরে তিনি জানতে পারেন, তার নাম বাদ দিয়ে অন্য তিনজনের নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন হাসনুর রশিদ।

অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপির নেতারা তদন্ত করেন। এরপর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে আব্দুল খালেককে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, “হাসনুর রশিদ নিজেই আমাকে বলেন, তার নাম দিলে তিনি ৩০ হাজার টাকা দেবেন। পরে বলেন, ১০ হাজার টাকা দেবেন। তিনি এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।”

আব্দুল খালেকের দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।