কুমিল্লায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠিপেটা
“কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আমাদের পাওনা টাকা পরিশধে গড়িমসি করছেন।”
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কুমিল্লা ইপিজেডের ‘নাসা গ্রুপের’ শ্রমিকরা।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে দুই পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়; চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ করলে তাদের লাঠিচার্জ করা হয় এবং এতে কয়েকজন আহত হন।
দেড় ঘণ্টা পর সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সড়িয়ে নেয়। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় একাধিক শ্রমিককে।
নাসা গ্রুপের শ্রমিক ফরহাদ হোসেন ছোটন বলেন, “আমাদেরসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১৫০০ শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে।
“কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করছেন।”
কামাল হোসেন আরেক শ্রমিক বলেন, কয়েকদিন আগেও একটি মিটিং হয় বলে তারা শুনেছেন। কিন্তু সেখানে পনেরে’শ শ্রমিকের বিষয়ে কোনো কথাই হয়নি।
শ্রমিক কাওসার হামিদ বলেন, “আমাদের দাবি পাওনা টাকা যেন আমাদের দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অন্যথায় আবারো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।”
লাঠিপেটার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল বলেন, “শ্রমিকদের অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।”
হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান বলেন, “শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।”
