ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, অনাপত্তি সনদ বাতিল
ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করেছে দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। হঠাৎ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলেছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তর থেকে চিঠি পাওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করা হয়।
তিনি বলেন, সোমবারের পরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কোনো ইলিশ প্রবেশ করেনি। চলতি বছরের জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৫৩ টন ইলিশ এসেছে; যার আমদানি (এলসি) মূল্য নয় লাখ ১০ হাজার ডলার।
মৎস্য অধিদপ্তর ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে জানান আশওয়াদুল আলম।
ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য ছিল ছয় কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশের আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আর অগাস্টে তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি মাছের ঘোষিত মূল্য দাঁড়ায় ছয় কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।
জুলাই ও অগাস্টে মোট ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ এনেছে। জুলাইয়ে তিনটি এবং অগাস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করে।
পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
ভোক্তা ও ক্রেতা সাধারণ বলছেন, আমদানি করা ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
এদিকে হঠাৎ ইলিশ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি আমদানিকারকদের। তবে দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার তারা দেশি ইলিশ বিক্রি করতে পারবেন। এতে ক্রেতারা প্রকৃত ইলিশের স্বাদ পাবেন।
সাধারণ ক্রেতা আশিকুর রহমান জানান, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ দেখতে অনেকটা পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিকভাবে মিল থাকায় ক্রেতারা দেশি ইলিশ ভেবে ভারতীয় ইলিশ কিনছেন।
হঠাৎ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলেছেন ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই। বলেন, “আমদানির উদ্দেশে ওপারে ইলিশ কিনে রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া আমদানি খরচের লোকসান তো রয়েছেই।”
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে এক হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৫৩ টন ইলিশ আমদানি হয়েছে।
এর মধ্যে ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি হবে কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বুধবার সকাল থেকে কোনো ভারতীয় ইলিশ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে আমদানিকারকদের অনাপত্তি বাতিল করায় কেউ আমদানি করতে পারেনি বলে শুনেছেন তিনি।
