০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে যমুনায় বিলীন হচ্ছে স্কুল, বাজার, বাড়িঘর

“তবে বাজেট না থাকায় চরাঞ্চলের নদীতীরের ভাঙন স্থানে জরুরি সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2026, 08:07 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে পানি কমার মুহূর্তে ভাঙন প্রবল হয়ে ওঠেছে। গত কয়েকদিনে সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নদীতীরবর্তি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। 

এর মধ্যে কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব উপজেলায় বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, গাছপালা ও নদীতীরের চরাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরোটা, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের আংশিক এবং অন্তত ১০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। 

এ ছাড়া একই উপজেলার বাঘুটিয়া ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলেও কয়েকদিন ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে।

পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় ভাঙনের খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা রোববার দুপুরে এলাকা পরিদর্শন করেন। পাউবোর পক্ষ হতে ভাঙনরোধে ঘটনাস্থলে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে।

এদিকে, কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের চরগিরিশ ও ভেটুয়া এলাকায় নদীভাঙন চলছে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আল আমিন বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে গত এক মাসে অন্তত দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ায় পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। আর কালিকা খ প্রকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপনাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চরগিরিশ বাজার নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে সরকারি একটি আশ্রয়কেন্দ্র। 

অপরদিকে, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, কুরসী ও শ্রীপুর এলাকায়ও ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে এসব এলাকার বেশকিছু আবাদি জমি, বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। অনেকে বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানে ভাঙন দেখা দিলে সেখানে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। তবে বাজেট না থাকায় চরাঞ্চলের নদীতীরের ভাঙন স্থানে জরুরি সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।