রাজবাড়ীতে বেড়েছে লোড শেডিং
এ জেলায় ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুাতের ঘাটতির কথা জানালেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির রাজবাড়ী নির্বাহী প্রকৌশলী।
গত কয়েকদিন ধরে রাজবাড়ীতে বেড়েছে লোড শেডিং। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রতিবারই এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে লোড শেডিং হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরমে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের লেখা পাড়াতেও ব্যঘাত ঘটছে।
পৌর শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার শিক্ষার্থী জাকিয়া জহির সুভা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গরমে খুবই অস্বস্তিতে রয়েছি। দিনে ও রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোড শেডিং এই অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
“আগামী মাসে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, ছোট বোন এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ অবস্থায় লোড শেডিংয়ের কারণে ঠিকমত পড়া-লেখা করতে পারছি না।”
একই এলাকার লিপি খাতুন বলেন, “কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরম। বাইরে বের হওয়ার মত উপায় নেই। কিন্তু ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কারণে ঘরেও ঠেকা দায়।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানরা লেখাপাড়া করতে পারছে না।”
শহরের বড়পুল এলাকা ব্যবসায়ী হুমায়ন কবির বলেন, “বিদ্যুতের কথা আর কী বলব? সেহেরিতে থাকে না, ইফতারের সময় থাকে না। দিনে-রাতে কতবার যায় আর আসে সেটার ঠিক নাই।”
পৌর মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা শিমুল হোসেন বলেন, “কয়েকদিন পরেই ঈদ। কিন্তু ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কারণে ক্রেতারা আসতে চায় না। যাও দু’একজন আসে, গরমের যন্ত্রণায় তাড়াহুড়া করে চলে যায়। ঈদের সময়টা অন্তত বিদ্যুৎ সার্ভিসটা ভালো হওয়া দরকার।”
রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র শীল বলেন, “সারা দেশে দাবদাহ চলছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজবাড়ীতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে ওঠা-নামা করছে। এ অবস্থায় লোড শেডিং বেড়ে গেছে। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা প্রচণ্ড কষ্ট পায়।”
তিনি আরও বলেন, “ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কারণে আমাদের পেশাগত কাজে বিঘ্ন ঘটছে।”
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির রাজবাড়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ আসে রামপাল থেকে। গত কয়েকদিন আগে লাইন ফল্ট করার করাণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এ জেলার চাহিদা ৭০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে পাচ্ছেন তারা ৫০ মেগাওয়াট। ২০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় লোড শেডিং করতে হচ্ছে।”
