শরীয়তপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৭ জনের নামে হত্যাচেষ্টা মামলা
হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় সংবাদ প্রকাশের জেরে চার সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনের নামে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।
সোমবার দুপুরে ঘটনার পর রাতেই সমকালের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি সোহাগ খান সুজন সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন বলে জানান পালং মডেল থানার ওসি হেলাল উদ্দিন।
আসামিরা হলেন- নুরুজ্জামান শেখ (৪২), শামীম শেখ (৩৯), ইব্রাহিম মোল্লা (৪০), জিহাদ মোল্লা (২১), মাকসুদা বেগম (৩৫), মনির ঢালী (৩০) এবং সালাউদ্দিন ঢালী (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াসের বিরুদ্ধে এক রোগীর ব্যবস্থাপত্র ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়।
তবে ওই চিকিৎসকের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিক ব্যবসায়ী ও দৈনিক জনতা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নুরুজ্জামান শেখ একটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে রোববার দুপুরে নুরুজ্জামানের সঙ্গে সোহাগ খান সুজনসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বাকবিতণ্ডা হয়।
সোমবার দুপুরে সুজন তার ব্যক্তিগত অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে নুরুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন হাতুড়িসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে সুজনের ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষা করতে মজুমদার অনি, নয়ন দাস ও সাইফুল এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অন্যরা চলে গেলেও সমকালের প্রতিনিধি সোহাগ খান সুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
অন্য আহতরা হলেন- নিউজ২৪ টিভি ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, বাংলা টিভির নয়ন দাস এবং দেশ টিভির প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম আকাশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা।
এতে বক্তব্য দেন শরীয়তপুরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও আরটিভির জেলা প্রতিনিধি আবুল হোসেন সরদার, স্থানীয় ‘দৈনিক হুংকারের’ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি কে এম রায়হান কবীর এবং এশিয়ান টিভির কাজী নাছির।
ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, হামলার ঘটনায় আহত সোহাগ খান সুজন একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
