২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

যমুনা পাড়ে ঈদ আনন্দ, মানুষের মিলনমেলা

শনিবার সকাল থেকে যমুনার পাড়েই বসেছে অস্থায়ী মেলা; যা শিশুদের জন্য বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Mar 2026, 07:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:13 PM

বগুড়া শহরে পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় ঈদ উপলক্ষে মানুষ আনন্দের জন্য ছুটে এসেছে ধুনটের ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী নদী রক্ষা বাঁধে। দুপুর থেকে এ এলাকা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। 

শনিবার সকাল থেকে যমুনার পাড়েই বসেছে অস্থায়ী মেলা; যা শিশুদের জন্য বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে। নাগরদোলা, নৌকার দোলনা, ময়ুরের রেল, শিশুদের দৌড়ঝাপে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে চারপাশ। অনেকে পরিবার নিয়ে যমুনার শীতল হাওয়ায় বেড়াতে এসেছেন। পরিচিতদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছাও বিনিময় করেন।   

বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে কেউ অটোরিকশা, কেউ প্রাইভেট কার, কেউবা মোটরবাইক নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। কেউ কেউ নদীতে পাল তোলা নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বাটিভর্তি খাবার; পরিবারের সবাই মিলে নদীর পাড়ে বসেই সেরেছেন বিকালের নাস্তা। 

স্ত্রী আর ছেলেমেয়েকে নিয়ে যমুনা পাড়ে ঘুরতে এসেছেন শিবগঞ্জ উপজেলার রায়গঞ্জের শফিকুল ইসলাম। তিনি বলছিলেন, এখানে এলে ভালো লাগে। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন। 

“এক মহাস্থানগড় আর কতবার দেখব। তাই ছেলেমেয়েকে নিয়ে এখানে এসেছি। নৌকায় ঘুরলাম, ছেলেমেয়েরা নাগরদোলায় ওঠল। ভালো একটা বিকাল কাটালাম।” 

কাহালু উপজেলার সাজেদুর রহমান বলেন, তারা ১০ বন্ধু মিলে মাইক্রোবাসে করে এসেছেন। ভাল লেগেছে, সুযোগ পেলে আবার আসবেন। 

শেরপুর উপজেলার নবদম্পতি তারিক-সাজিদাও তাদের ভালো লাগার অনুভূতির কথা বললেন। তাদের ভাষ্য, প্রশাসন সুনজর দিলে এখানে একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। যেন শুধু ঈদ না, সারা বছরই মানুষ অবসর সময় কাটাতে আসতে পারে। 

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, “স্পার পূর্ণ নির্মাণ এবং বিনোদনকেন্দ্র করার জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আছে। পাশ হলেই কাজ শুরু হবে।”

ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, “এবারই প্রথম বিনোদনের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমার ধারণা, ২০ হাজারের বেশি লোক সমাগম হয়েছে। এত লোক এর আগে ঈদে কখনও আসেনি।”