হার্ডিঞ্জ রেল সেতুতে পিকনিকের নৌকার ধাক্কা, নিখোঁজ ১
শৈলকুপা পৌর এলাকার কবিরপুরের ১২০ জনের দল নৌকা নিয়ে ভেড়ামারার গোলাপ নগরে সোলেমান শাহর মাজারে ঘুরতে এসেছিলেন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ রেল সেতুর পিলারে পিকনিকের নৌকা ধাক্কা দিলে পদ্মা নদীতে পড়ে যান তিনজন। তাদের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা গেলেও একজন নিখোঁজ আছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার হার্ডিঞ্জ রেল সেতু এলাকার পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন।
নিখোঁজ রকি আহমেদ (২৪) ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব বলে জানিয়েছেন তার সহযাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নৌকার যাত্রীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিস জানায়, শৈলকুপা পৌর এলাকার কবিরপুরের ১২০ জনের দল নৌকা নিয়ে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপ নগরে সোলেমান শাহর মাজারে ঘুরতে এসেছিলেন।
ফেরার পথে নৌকাটি হার্ডিঞ্জ রেল সেতু এলাকায় আসলে পদ্মার তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে সেতুর একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা লেগে নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে ছিটকে পড়েন।
পড়ে যাওয়া কয়েকজন নৌকার অন্যান্যদের সহযোগিতায় উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন তিন জন। পরে খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী টিম এসে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
তবে রকি আহমেদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এসময় নৌকাটি স্রোতের সাথে ভেসে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা দেয়। পরে নৌকাটি কোনোমতে নিয়ন্ত্রণ করে তীরে নিতে সক্ষম হন মাঝি ওয়াহেদ আলী।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, “নৌকাটিতে প্রায় ১২০ জন ছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে তথ্য পেয়েছি। এছাড়া ঠিক কিভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, শনিবার সকাল থেকে খুলনা থেকে আসা উদ্ধারকারী ডুবুরি দলের সমন্বয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান চলছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একদিকে অতি উচ্চ শব্দ অন্যদিকে যাত্রীরা উচ্ছৃঙ্খলভাবে নৌকাতে অবস্থান করায় সামনের নিরাপদ চ্যানেল দেখতে পাননি মাঝি অথবা তীব্র স্রোতের নদীতে অদক্ষ মাঝি নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
