১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে রংপুরে পুড়ছে ক্ষেতের ফসল, দুশ্চিন্তায় কৃষক

“এবারে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করি চরের ৩০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করছি।কয়দিন ধরি যে রইদ তাতে ৩০ শতক মাটির সোগগুলা বাদামের গাছ পুড়ি গেইছে।”

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Feb 2025, 06:56 PM

Updated : 01 Sep 2026, 09:04 PM

এক মাসের টানা তাপপ্রবাহে রংপুরের চরাঞ্চলে বাদাম, ভুট্টা ও মরিচ ক্ষেতের ফসল পুড়ে যাচ্ছে। ‘বাড়তি সেচে উৎপাদন খরচ বাড়লেও’ ফসলের উন্নতি হচ্ছে না। এ অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ভুট্টা পরিপক্ব না হতেই গাছ মরে যাচ্ছে; প্রতিদিন সেচ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ক্ষেতের বালুমাটি পুড়ে হলদ রঙ ধারণ করছে।

বুধবার সকালে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে বাদাম, ভুট্টা ও মরিচের গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেতে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।

ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলার খোরাগাছ ইউনিয়নের খোরাগাছ এলাকার কৃষক মোকলেস মিয়ার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তিনি বলেন, “প্রতিদিন ভুট্টা বাড়িত পানি দেংচোল।তবুও কাজ হয়চোল না বাহে। আর এক সপ্তাহ গেইলে ভুট্টাগুলার দানা ভালো হইল হয়।তখন তুললে ভুট্টার ওজনও বাড়িল হয়।

“কয়টা টাকা পাইনো হয়। আকাশের খরার কারণে ভুট্টাগুলা এবার হয়াও হইল না।”

গংগাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের শেখ হাসিনা সেতু এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম বলছিলেন, “১০০ শতক জমিত ১ লাখ টাকা খরচ করি বাদাম লাইছি বাহে, এই রোদের কারণে বাদামের গাছ মরি যায়চোল। হামারগুলা একনা মাটিয়াল মাটি দেখি টিকি আছে।নদীর মাঝেরগুলা তো মরি গেইছে।”

চর ইচলি এলাকার কৃষক আজিুল ইসলাম বলেন, “এবারে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করি চরের ৩০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করছি। কয়দিন ধরি যে রইদ তাতে ৩০ শতক মাটির সোগগুলা (সবগুলো) বাদামের গাছ পুড়ি গেইছে।

“দিনে দুই থাকি (থেকে) তিনবার পর্যন্ত পানি দিছি, কোনো কাজ হয় নাই। এই জন্যে বাদামের আশা বাদ দিয়া দিছুং।”

রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুরে গত ১৯ দিন ধরে কখনও ৩৭ ডিগ্রি, কখনও ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অতিক্রম করছে। এ কারণে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে।

গংগাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চলে ২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ হেক্টর জমিতে বাদাম ও ১ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে ভুট্টার।

তিনি বলেন, “শীতকালীন ভুট্টা এখন তোলার সময়। এমন ক্ষতি হওয়ার কথা না। তবে তাপের কারণে হতেও পারে।”