জাকসু: গার্ড পাঠিয়ে ডেকে আনা হয় ‘অসুস্থ’ জান্নাতুল ফেরদৌসকে
“যে পদ্ধতিতে ভোট গণনা হয়েছে, গণনা হচ্ছে, তাতে তিন দিনেও ফল দেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা এ পদ্ধতির পরিবর্তন চাই,” বলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট গণনার দায়িত্ব পালনে গিয়ে মারা যাওয়া শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস ‘অসুস্থ’ ছিলেন এবং তাকে গার্ড পাঠিয়ে ডেকে আনা হয় বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সুলতানা আক্তার।
জাকসু নির্বাচনে নবাব ফয়জুন্নেসা হলের এ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলছেন, “নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থাপনার জন্যই আমার সহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে আমি মনে করি।
“আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এই মৃত্যুর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।”
শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ—জাকসু নির্বাচনে প্রীতিলতা হলের পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস।
শুক্রবার সকালে ভোট গণনার দায়িত্ব পালন করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বলেন, “তিনি (জান্নাতুল ফেরদৌস) সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম করে চাপ নিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। চাপের কারণে তিনি হয়তো ঘুমাতে পারেননি।
“সকালে অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি। গার্ড পাঠিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে। আসার পর তিনি তিন তলায় উঠতে গিয়ে পড়ে যান। কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয়; হাসপাতালে নেওয়ার আগেই।“
জাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা হওয়ার কথা ছিল ওএমআর মেশিনে। কিন্তু ছাত্রদলের অভিযোগের মুখে তা হাতে গোনার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এ কারণে ভোটের পরের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও ফল প্রকাশ হয়নি।
ভোট গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সুলতানা আক্তার বলছেন, “কাল (বৃহস্পতিবার) যদি ভোট গণনা ফল দিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে হয়ত তার মৃত্যু হতো না।
“যে পদ্ধতিতে ভোট গণনা হয়েছে, গণনা হচ্ছে, তাতে করে তিন দিনেও ফল দেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা এ পদ্ধতির পরিবর্তন চাই।”
তিনি বলেন, “এই গণনা প্রক্রিয়ার কারণে আজ সকালে আমাদের একজন সহকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি আমার সহকর্মীর মৃত্যুতে খুবই ব্যথিত, ক্ষুব্ধ।
“আমি মনে করি, আমার সহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে, সেখানে আমিও থাকতে পারতাম। কারণ, অমানুষিক পরিশ্রম আমরা করেছি ১০ তারিখ থেকে।”
সুলতানা আক্তার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিবকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম ভোট কোথায় গণনা হবে, তিনি বলেছিলেন সিনেট ভবনে। আমি বলেছিলাম, তাহলে দেরি হয়ে যাবে। কেন আমরা ২১টি হলে গুণতে পারব না। আমরা মেশিনের মাধ্যমে কাজ করব ম্যাডাম, যেন অতিদ্রুত রেজাল্ট দিতে পারি, যেন আপনাদের কষ্ট লাঘব হয়।
“আমরা সেটা মেনে নিয়েছি; আমরা সেটাই জানতাম। কিন্তু ১০ তারিখ রাতের পরে আমরা জানতে পারলাম, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা হবে। সেটা হলে যদি বিভিন্ন হলে হত, রাত ১০টার মধ্যেই ভোট গণনা শেষ হয়ে যেত। ১১টার মধ্যেই ফল দিয়ে দেওয়া সম্ভব হত। তাহলে আমার সহকর্মীর মৃত্যু দেখতে হতো না।”
