১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুরে কৃষি কর্মকর্তাকে ‘থাপ্পড়-মারধর’: ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

“রাহাত ও ফজলু আমার অফিসে এসে জানতে চায় কারা কৃষি প্রণোদনা পেয়েছে এবং নেতাদের ভাগ কত।”

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Nov 2025, 04:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:36 PM

শেরপুরের নকলায় ‘সরকারি কৃষি প্রণোদনা দিতে রাজি না হওয়ায়’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহারিয়ার মোরসালিন মেহেদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।    

বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনার পর রাতেই নকলা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

নকলা থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কাশেম বলেন, “ওই কৃষি কর্মকর্তা মারধরের ঘটনায় নিজে বাদি হয়ে মামলা করেছেন।

“ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।”

মামলার অসামিরা হলেন- নকলা পৌরসভার ধুকুরিয়া এলাকার সুরুজ মোওলার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম (৩৫) এবং তার সহযোগী একই একালার সিরাজুল হকের ছেলে ফজলু (৩২)।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোরসালীন মেহেদীর অফিসের একটি চেয়ারে বসে কথা বলছেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম। এক পর্যায়ে রাহাত কৃষি কর্মকর্তাকে থাপ্পর মারেন এবং মারধর শুরু করেন। এ সময় অফিসের অন্যান্য লোকজন তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।

ঘটনার বর্ণনায় কৃষি কর্মকর্তা শাহারিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, “বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে রাহাত ও ফজলু আমার অফিসে এসে জানতে চায় আমি এখনও কেন বদলি হচ্ছি না? কারা কৃষি প্রণোদনা পেয়েছে এবং নেতাদের ভাগ কত। এরপর তারা বলে, ছাত্রদলের ভাগ তাদের দিতে হবে।

“আমি তাদের জানাই যে, সরকারি প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের জন্য। রাজনৈতিকভাবে কাউকে ভাগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।”

এ কৃষি কর্মকর্তার অভিযোগ, তিনি বিষয়টি নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদুর রহমানকে জানান। তখন রাহাত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সহকারী ফজলুকে নিয়ে তাকে অফিসের ভেতরেই মারধর করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোরশেদুর রহমান বলেন, “রাহাত উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। কৃষি কর্মকর্তা আমাকে ফোনে বিষয়টি জানালে আমি রাহাতের জেঠাত ভাই নকতার যুবদল নেতা লুটাসকে বিষয়টি জানাই।

“পরে লুটাস ফোনে রাহাতকে ধমক দেন। তারপরও সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে।”

জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসেম সিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইম হাসান উজ্জ্বল বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি শুরুতে অবগত ছিলাম না। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়েছি। একজন কর্মরত অফিসারের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় আমরা দলীয়ভাবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

“যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী তারা নিজেদের ব্যবস্থা নেবে। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আমরা রাহাত হাসান কাইয়ুমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুমের মোবাইল নম্বরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনার পর বুধবার রাতে নকলা উপজেলা ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে কৃষি কর্তকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিনকে মারধর করার ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রাতে ওই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। 

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক কৃষিবিদ মো. সাহিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।