২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

এখনও এসএসসির প্রবেশপত্র পায়নি গাইবান্ধার অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী

পরীক্ষার একদিন আগেও প্রবেশপত্র হাতে পায়নি পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Apr 2026, 09:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:27 PM

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। কিন্তু পরীক্ষার একদিন আগেও প্রবেশপত্র হাতে পায়নি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী।

এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি-না এমন শঙ্কায় কাটছে প্রতিটি মুহূর্ত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।

শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।

সোমবার বিকালে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় প্রবেশপত্র পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে দেখা যায় উপজেলার জুনদহ উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৬ শিক্ষার্থীকে।

এদিন সকাল থেকে ইউএনওর কার্যালয়ে অপেক্ষা করছেন সিয়াম, আরেফা খাতুন, জিহাদ ও জুঁই। তারা বলেন, আগামীকাল পরীক্ষা। এখন তাদের থাকার কথা পড়ার টেবিলে। কিন্তু প্রবেশপত্রের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছেন। আদৌ পরীক্ষায় বসতে পারবেন কিনা, এমন উৎকণ্ঠা সবার মধ্যে। 

পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, জুনদহ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল এবং অফিস সহকারী নাঈম মিয়ার গাফিলতির ও অবহেলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছে।

জুনদহ উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শাহআলম সরকার বলেন, তিন থেকে চার দিন আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়। তখন প্রবেশপত্র না পাওয়া ৩৬ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নাঈম মিয়া বোর্ড থেকে প্রবেশপ্রত্র নিয়ে আসার কথা বলে তাদের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রবেশপত্র নিয়ে আসেননি।”

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত প্রবেশপত্র সরবরাহ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল ও অফিস সহকারী নাঈম মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

তবে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী বলেন, পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র হাতে পাবে, এমনটাই তাদেরকে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল।

শুধু জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়েই নয়, পলাশবাড়ী উপজেলার গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়েরও ২৯ জন এসএসসি পরীক্ষা এখনও পর্যন্ত প্রবেশপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

অপরদিকে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে ভুলে ভরা প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব প্রবেশপত্রে কারো বিজ্ঞান বিভাগের স্থানে মানবিক বিভাগ, কারও ছেলে পরীক্ষার্থীর জায়গায় মেয়ের ছবি। আবার কারো মা ও বাবার নাম ভুল। এ ছাড়া কিছু পরীক্ষার্থী এখনও প্রবেশপত্র পায়নি। 

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, সবাই যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। এ ছাড়া ছোট ছোট ভূলগুলোও সমাধান করা হচ্ছে। 

পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, রাতের মধ্যে সকল শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র হাতে পাবেন।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। 

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।